ফরিদপুরে সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী অরুণ বসুর জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে ‘অরুণ বসু’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন সমবেত অতিথিবৃন্দ। আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে ‘অরুণ বসু’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন সমবেত অতিথিবৃন্দ।

আলোচনা সভায় আলোচকরা বলেন, অরুণ বসু ছিলেন আদি বাঙালি। তার শিকড় বাঁধা ছিল সেই প্রাচীন ভূমিতে, যেখানে সান্ধ্য কথকতা, পালাগান, মুর্শেদী-জারি-রামায়ণী, শব্দে ও বিমূর্তে ভরাট থাকত অসাম্প্রদায়িক গ্রামীণ বাংলা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অরুণ বসুর অভাব দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে।

এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জাভেদ হাসান বলেন, কাঁচা পাণ্ডুলিপি অরুণ বসুর যাদুর হাতে কীভাবে সম্পদ হয়ে ওঠে তা আমি নিজ চোখে দেখেছি অরুণ বসুর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে। তিনি নিজের মুন্সিয়ানায় কাচা লেখাকে সমৃদ্ধ সম্পদ করে তুলতেন অথচ নিজে কখনও লেখালেখি করেননি। এই মানুষটি পুরোপুরি নিজের তৈরি করা একটি জগতে বসবাস করতেন, আর অনাবিল হাসি ও কথার পারঙ্গমতায় আমাদের মুগ্ধ করতেন।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কুদরত-এ-হুদা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি, সে পরিস্থিতিতে অরুণ বসুকে প্রতিনিয়ত আমাদের স্মরণ ও স্মরণে রাখতে হবে। অরুণ বসু আমাদের সম্পদ, তিনি যেন হারিয়ে না যান। তার শূন্যতা আমরা অনুভব করা শুরু করেছি।

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের লেখক ও চিকিৎসক সাত্যকি হালদার বলেন, অরুণ বসু ছিলেন আদি বাঙালি। তার শিকড় বাঁধা ছিল সেই প্রাচীন ভূমিতে, যেখানে সান্ধ্য কথকতা, পালাগান, মুর্শেদী-জারি-রামায়ণী, শব্দে ও বিমূর্তে ভরাট থাকত অসাম্প্রদায়িক গ্রামীণ বাংলা। তার স্মরণে বছরের একটি দিন অরুণ বসু স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা গেলে ভাল হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফুলকি ফরিদপুরের সভানেত্রী অঞ্জলি বালা, অরুণ বসুর সহধর্মিনী কবিতা গোস্বামী, অরুণ বসুর একমাত্র ছেলে মল্লার বসু, ফরিদপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আমিনুর রহমান ফরিদ, প্রকৌশলী নিমাই গাঙ্গুলী, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, ফরিদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান শামীম প্রমুখ।