নতুন সেতু নির্মাণের কথা বলে প্রকৌশল দপ্তরকে না জানিয়ে সড়ক কেটে পালিয়েছেন ঠিকাদার। এখন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় বিকল্প এ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লাখো মানুষকে। কবে নাগাদ নতুন সেতু নির্মাণ ও সড়ক ঠিক হবে তারও কোনো হদিস নেই।

চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে বিকল্প জরাজীর্ণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নেই কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। এভাবে প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও দেখা মেলেনি সেতুর নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের।

ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছেন পথচারীরা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহন ও পরিবহনের মালপত্র। সব মিলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে সেতু এলাকায়। এ চিত্র কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি-বাঁশগ্রাম বাজার সড়কের চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর পূর্বপাড়ায় তিন রাস্তা মোড় এলাকায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পথচারীদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভালো সেতুটির দু'পাশের সড়ক কেটে দিয়ে পালিয়েছেন ঠিকাদার।

মহননগর সেতু এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দু'পাশের পাকা সংযোগ সড়ক কাটা রয়েছে। সেখানে নেই কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা। সেতুর দক্ষিণ পাশের খালের ভেতর সড়ক থেকে অনেক নিচু ও জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। যানবাহন থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। আর যানবাহনগুলো স্থানীয়রা ও যাত্রীরা ঠেলা দিয়ে তুলে দিচ্ছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ মানুষ এ রাস্তায় চলাচল করেন। এ ছাড়া পাশের ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা ও মাগুরা জেলার মানুষ কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া-আসা করেন এ সড়ক দিয়ে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদার জেলার মিরপুরের রিপন আলী। নির্মাণকাজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দৃশ্যমান কাজ না থাকায় বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রকৌশলীকে না জানিয়ে সড়ক কেটে পালিয়েছেন।
সেতুটির পাশের মুদি দোকানি সজল বিশ্বাস বলেন, 'প্রতিদিনই গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। দোকান ফেলে বারবার ছুটে যাই গাড়ি ঠেলতে। মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া দরকার।'

বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রিপন আলী বলেন, 'মালবোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। রাতের আঁধারে মানুষ গাড়ি নিয়ে গর্তে পড়ে যান। সাত থেকে আট মাস ধরে এ দুর্ভোগ। যেন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।'

মূল ঠিকাদার রিপন আলীকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্য এক ঠিকাদার বলেন, 'রিপন ভাই আমার শ্রমিকদের দিয়ে সেতুর রাস্তা ভাঙার কাজ করেছিলেন। কিন্তু কবে কাজ করবেন তা জানি না। যতদূর জানি, কাজের মেয়াদ নেই।'

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, 'কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ বাতিলের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সড়ক কেটে পালিয়েছেন। সেখানকার জনদুর্ভোগের বিষয় ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, 'স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাটা সড়ক সংস্কার করে চলাচল স্বাভাবিক করতে।'