মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। বুধবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিমের আদালতে আবেদনটি করেন চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ওয়ার্ড মাস্টার কামরুল ইসলাম।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- নগরের বন্দর থানার সাবেক ওসি (বর্তমানে নগর পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক) মহিউদ্দিন মাহমুদ, বন্দর থানার সাবেক এসআই রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া ও কে এম জান্নাত সজল, নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এসআই (বর্তমানে সিলেটে কর্মরত) মঙ্গল বিকাশ চাকমা, বন্দর এলাকার বাসিন্দা জামাল ফরাজী এবং মিলন ফরাজী। 

বাদীর আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাদীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির একপর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদী মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এমন মিথ্যা মামলা করায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী ১২ ডিসেম্বর আদেশের দিন ধার্য্য করেছেন।

মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে জমা রাখা আট লাখ টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাঁকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একটি চুরির মামলায় হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন তাঁরা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকিও দেয়। পরে তাঁকে ওই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাঁচ দিন পর মুক্তি পান তিনি। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যান এসআই কে এম জান্নাত সজল। তবে কাগজপত্রে দেখানো হয় এসআই আবদুর রহিম নামে। এভাবে ঘটনা আড়াল করার নানা চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে মাদকের মামলায় ফাঁসানো হয়।