মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে দলটির ১ হাজার ৭৬৫ নেতাকর্মীর নামে সদর থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে বাদী হয়েছে পুলিশ এবং অন্য মামলার বাদী হয়েছেন স্থানীয় এক শ্রমিক লীগ নেতা। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার রাতে মুক্তারপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সদর থানার এসআই মাঈনউদ্দিন বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছেন, সেটিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনকে। এছাড়া ৩১৩ জনের নাম উল্লেখসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১২০০ অচেনা নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটির বাদী হয়েছেন মুক্তারপুর এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মালেক। সংঘর্ষের সময় মুক্তারপুর এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ২০০ অচেনা নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহস্রাধিক নেতাকর্মীরাও আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। পরে পুরাতন কাচারী এলাকায় প্রতিবাদ সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানায় বক্তারা।