রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকি প্রদান করায় দোষীদের বিচার দাবি করেছেন সেখানকার সম্মিলিত চিকিৎসকরা। বুধবার রমেকের পরিচালক বরাবর ৪১ চিকিৎসক স্বাক্ষরিক একটি অভিযোগনামায় এ ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হলে রমেকে জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের সেবা প্রদান ও কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকি প্রদান করার ঘটনার নেতৃত্ব দেন সেখানকার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়ন। তাঁর সঙ্গে আরও ছিলেন ওয়ার্ডমাস্টার হাসান, সুমন, বিপ্লবসহ অনেকে। বুধবার হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় হেপাটোলজি বিভাগের আয়োজনে একটি সায়েন্টিফিক সেমিনার চলাকালে তারা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সেখানে নয়ন তাঁর দলবলসহ উপস্থিত হয়ে অধ্যাপকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কেন ওষুধ কোম্পানির সহযোগিতা নিয়ে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করে এ ব্যাপারে পরিচালকের কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা- জানতে চাইলে উপস্থিত সবার সঙ্গে অসদাচরণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন নয়ন। একই সঙ্গে জানান, কর্মচারী ইউনিয়ন কোনো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতে দেবে না। আরও বলেন, পরিচালক কিছু নয়; হাসপাতাল আমরাই চালাই। একই সঙ্গে সেখানে সিনিয়র চিকিৎসকদের পরে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল মিয়া বলেন, আমরা মনে করি, কর্মচারীদের এহেন আচরণ চিকিৎসকদের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণে আমরা তাদের বিচার দাবি করছি। পরিচালক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব।
সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, এই অভিযোগ রমেক পরিচালক ছাড়াও সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কারণ বিষয়টি আমাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসান জানান, একটি অভিযোগ তাঁর কাছে চিকিৎসকরা দিয়েছেন। আগামী শনিবার এ ব্যাপারে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেছেন, আমরা উদ্ভূত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আশাবাদী।