নোয়াখালী সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ঘাতক দল।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম তাসনিয়া হোসেন অর্পিতা (১৪)। হত্যাকাণ্ডের পরপরই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাসনিয়া নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল এবং নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লার মৃত রিয়াজ হোসেন-রাজিয়া সুলতানা দম্পতির মেয়ে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাসনিয়া হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, তাসনিয়ার বাবা ২০১৪ সালে আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এরপর থেকে তাঁর মা রাজিয়া সুলতানা কেজি স্কুলে শিক্ষকতা করে সংসার চালান। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের মালিকানাধীন বেগমগঞ্জের আলীপুরে জয়নাল আবেদীন মেমোরিয়াল একাডেমির সহকারী শিক্ষক। দুই মেয়েকে নিয়ে রাজিয়া সুলতানার সংসার। বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাজিয়া সুলতানা সকাল ৭টায় স্কুলের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হন। স্কুল ছুটির পর টিউশনি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘরে ফিরে দেখেন ঘরের দরজার বাইরে দিক থেকে তালা ঝুলানো। ভেতরে উচ্চ শব্দে টিভি চলছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি জানালায় উঁকি মেরে দেখেন, বিছানার ওপর বিবস্ত্র অবস্থায় তাসনিয়ার গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে চিৎকার দিয়ে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে সন্ধ্যা ৭টায় সুধারাম মডেল থানায় খবর দেন।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী সাঈদ (২০) প্রায়ই তাসনিয়াকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই বখাটে ছাত্রীটিকে হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছিল।