এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সরকারি সাটুরিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসেছিল রুনা আক্তার। হাতে ব্যান্ডেজ ও কোমরে বেল্ট দেখে প্রবেশপথে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান শিক্ষকরা। রুনা তখন জানায়, বুধবার রাতে সিজারের মাধ্যমে মেয়েসন্তানের জন্ম দিয়েছি। এরপরও গণিত পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে এসেছি। বিষয়টি কেন্দ্রসচিবকে জানানো হয়। তিনি সেখানে আসার পর রুনা জানায়, সিটে বসেই পরীক্ষায় অংশ নেব।

রুনা সাটুরিয়ার কর্নেল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্রী। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালাম বলেন, লেখাপড়ায় আগে থেকেই আগ্রহ ছিল রুনার। এসএসসি পরীক্ষা চলার মধ্যেই মেয়েসন্তানের জন্ম দিয়ে পরদিনই আবার হলে এসেছে। মা ও শিশু দু'জনেই বর্তমানে সুস্থ আছে বলেও জানান তিনি।

রুনা দীঘলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামের বোরহান উদ্দিনের মেয়ে। একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তার বিয়ে হয়।

রুনা আক্তার বলল, কয়েক দিন আগে থেকেই পেটব্যথা করছিল। ব্যথা নিয়েই অন্যান্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বিষয়টি কাউকে জানাইনি।' মঙ্গলবারও ব্যথা নিয়েই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল রুনা। পরে বুধবার রাতে বেশি ব্যথা অনুভব করায় পরিবারের সদস্যরা সাটুরিয়ার একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করে।

রুনা আরও বলে, ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজার) মেয়েসন্তানের জন্ম দেয় সে। নবজাতক ও প্রসূতি রুনা দু'জনেই ভালো আছে।এক দিনের শিশু বাচ্চাকে ক্লিনিকে রেখে আজকে (বৃহস্পতিবার) গণিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।

সরকারি সাটুরিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, নিজ সিটে বসেই গণিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রুনা। মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিয়ে আরও দুই ছাত্রী সন্তান প্রসব করেছে। তারাও সুস্থ আছে। তবে একজন মেডিকেল অফিসার ওই পরীক্ষার্থীদের দেখাশোনা করছেন।