ঘোষণার ছয় বছর পরও ঈশ্বরদীর প্রায় তিন লাখ মানুষ পাননি জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড। ২০১৬ সালে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম সারাদেশে শুরু হলেও ঈশ্বরদী উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ তো দূরের কথা, উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বলতেই পারেননি ঈশ্বরদীর ভোটারদের কবে দেওয়া যাবে এই কার্ড।

স্থানীয়রা জানান, অফিস-আদালত বিশেষ করে বিদেশগামী ও বিদেশি করপোরেট হাউসে কাজের সুযোগ পাওয়া যুবকদের নিত্যভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্মার্টকার্ডের জন্য। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্মার্টকার্ডের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান টিপু জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে মাঝে মধ্যেই তাঁকে অন্য দেশে যেতে হয়। সেখানে স্মাটকার্ড ছাড়া অনেক সময় ঝামেলা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শহরের পূর্বটেংরি এলাকার বাসিন্দা মাসুদুল ইসলাম মাসুদ বলেন, 'নির্বাচন অফিসে মাঝে মধ্যে স্মার্টকার্ডের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। জানি না এই অপেক্ষার কবে অবসান হবে।'

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলায় কাগজে ছাপানো লেমিনেটেড কার্ডধারী ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬ জন। এসব কার্ডধারীর একজনও স্মার্টকার্ড পাননি এখনও। করোনাসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে পুরোদমে সারাদেশে এমনকি পাবনা জেলার পাবনা সদর, আটঘরিয়া, ফরিদপুর, সাঁথিয়া উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হলেও ঈশ্বরদী উপজেলার ভোটাররা এখনও পাননি প্রতীক্ষিত স্মার্টকার্ড।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ঈশ্বরদীর ভোটাররা কবে স্মার্টকার্ড পাবেন তা আমি জানি না। এ বিষয়ে আমাকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। স্মার্টকার্ডের দরকার কী? স্মার্টকার্ড আর পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র তো একই।