নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আবদুর রহিম রনি (২৫) নামে তার সাবেক এক কোচিং শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক আলামতে রনির শরীরে নিহত স্কুলছাত্রীর নখের কিছু আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়।

শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। আটক রনি লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে। 

পুুলিশের দাবি, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে ও রগ কেটে হত্যা করেছে বলে রনি স্বীকার করেছে। বৃহষ্পতিবার বেলা ১২ থেকে ২টার মধ্যে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, রনির কোচিং থেকে কিছুদিন আগে পড়া বন্ধ করে দিয়ে অন্য স্থানে প্রাইভেট শুরু করে ওই স্কুলছাত্রী। এতে ক্ষিপ্ত হয় রনি, যদিও পরে ওই স্কুলছাত্রীর বাসায় বিভিন্ন সময়ে আসা-যাওয়া করতেন তিনি। মা ঘরে না থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো একসময় বাসায় ঢুকে স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পরে ঘরে থাকা ছোরা দিয়ে হাত ও গলা কেটে তাকে হত্যা করে। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরের আলমারিতে থাকা মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে।

ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, লক্ষীনারায়নপুর এলাকার অজি উল্যার ছেলে মোঃ সাইদ হোসেন ও ইস্রাফিল আলম স্কুলে যাওয়া আসার পথে তার মেয়েকে ডিস্টর্ব করত। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্য মান্য লোকজনের কাছে বিচার দিয়েও কোন সমাধান হয়নি। 

পুলিশ সুপার বলেন, শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে। 

সুধারাম মডেল থানার ওসি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত রনির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিকে এই ঘটনায় আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী লড়বেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও নোয়াখালী জেলা জজ আদালরেত আইনজীবী শিহাব উদ্দিন শাহীন।