বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামে নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ওই নৈশপ্রহরীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। তবে ইউএনওর দাবি, তাঁকে মারধর করা হয়নি। তিনি আহত হওয়ার অভিনয় করেছেন।

জানা গেছে, আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর কলহ চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এ কারণে আলমগীর তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বুধবার আলমগীরের স্ত্রী শহিদা বেগম উপজেলা পরিষদে গিয়ে স্বামীর খোঁজ করেন। স্বামীকে না পেয়ে সন্ধ্যায় ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বিষয়টি অবহিত এবং স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ করেন।

আলমগীরের জামাতা মাসুদ জানান, ইউএনও অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আনসার সদস্যদের মাধ্যমে আলমগীরকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী শহিদার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও নিজে এবং তাঁর দেহরক্ষী আনসার সদস্যরা আলমগীরকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। ইউএনওর কক্ষ থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদের মসজিদের সামনে জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান আলমগীর। খবর পেয়ে তাঁর স্বজনরা সেখানে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। চাকরির সুবাদে তিনি বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের কর্মচারী কোয়ার্টারে থাকেন।

চিকিৎসাধীন আলমগীর বলেন, আমার স্ত্রী কী অভিযোগ দিয়েছে, জানি না। ইউএনও আমাকে তাঁর অফিসে ডাকেন। সেখানে ইউএনও ও আনসার সদস্যরা লাঠি দিয়ে পেটান।

এ ব্যাপারে ইউএনও সমর কুমার পাল বলেন, 'আলমগীরের অভিযোগ মিথ্যা। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ছলচাতুরি করছে। তার স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।'