মামলা-হামলার নির্দেশনা দিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার ছক এঁকেছেন বলে অভিযোগ করেছেন করদাতা সুরক্ষা পরিষদের নেতারা। শুক্রবার নগরের কদমতলী মোড়ে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তাঁরা। সমাবেশ থেকে স্থাপনার ভাড়ার ওপর নির্ধারণ করা গৃহকর আইন ১৯৮৬ বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ২১ অক্টোবর গণশুনানির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থাপনার ভাড়ার বদলে স্থাপনার আয়তনের ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। এর মধ্যে ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি নুরুল আবছারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা ও দুটি জিডি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'ভাড়ার ওপর নির্ধারণ করা গৃহকর চট্টগ্রামবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা আপিলের পরও সহনীয় হচ্ছে না। আপিলের পরও চার-পাঁচ গুণ বর্ধিত থেকে যায়। ভাড়ার ওপর কর নির্ধারণের এমন আজব নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। এমনকি বাংলাদেশের কোনো করপোরেশন বা পৌরসভায়ও নেই। তাহলে চট্টগ্রামবাসীর কী অপরাধ? তাঁদের ওপর কেন বারবার এমন শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়?
পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ আমির উদ্দিন বলেন, 'সভাপতির বক্তব্যের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। মেয়র যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সেখানেও দুঃখ প্রকাশ করব। কিন্তু চট্টগ্রামের স্বার্থে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। সুরক্ষা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি সামাজিক সংগঠন, যা চট্টগ্রামের মানুষের দুঃসময়ের বন্ধু।'
তিনি বলেন, 'মেয়রের পক্ষে যাঁরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সভা-মিছিল করছেন তাঁদের মধ্যে আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব আছেন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে নিবেদিত রাজনীতিবিদ, ভালো মানুষ। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে মিশে আছে পদ-পদবি আর করপোরেশনের দুর্নীতির হালুয়া-রুটির ভাগ নেওয়ার প্রত্যাশায় অতি উৎসাহী ধান্ধাবাজ চক্র। যারা এসব করে মেয়র তথা সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে, জনবিচ্ছিন্ন করছে।'

পরিষদের নেতা হাসান মারুফ রুমী বলেন, 'গণআন্দোলন করতে গেলে এমন আঘাত আসবে সেটা স্বাভাবিক। আমরা মামলা-হামলায় ভীত নই। আমাদের সঙ্গে চাটগাঁবাসী আছেন। অতীতেও আমাদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিনকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে, চাকরিচ্যুত করেও বিরত করা যায়নি। এবারও যাবে না। বৃহস্পতিবার তাঁর রহমানবাগের ভাড়া বাসায় হামলা চালানো হয়েছে। সুরক্ষা পরিষদের মতো অতিশয় ক্ষুদ্র সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে জনগণের করের লাখ লাখ টাকা খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধ করুন।'

সমাবেশে অনুপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি নুরুল আবছার। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার সমাবেশে বলেন, 'আমার স্বামী ৬০ লাখ মানুষের দুঃখের কথা বলতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি। আমি আমার স্বামীকে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উৎসর্গ করলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত এই গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাপ বাতিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালানোর জন্য পরিষদের নেতাদের কাছে অনুরোধ করছি।'
সমাবেশে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- সুরক্ষার নেতা সাবেক কাউন্সিলর এমএ মালেক, সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, সৈয়দ হোসেন, শ্রমিক নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম, মফিজুর রহমান, হারুনুর রশীদ, ইসমাইল হোসেন মনু, আরশাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এ আর জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট বিশুময় দেব, নজরুল ইসলাম সর্দার, মীর মো. ইসলাম, মীর আক্তার হোসেন, মাসুদ খান মুন্না, আবদুর রহিম, জাহেদ আলী, আরমান আলী, হাবিবুল্লা, মোজাম্মেল হোসেন জ্যাকি ও মুন্না খান। সভা সঞ্চালনা করেন সাজ্জাদ হোসেন জাফর ও সোহেল আহমেদ। সভা শেষে গণমিছিল বের করা হয়।