ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়ক থেকে ডাকাতি হওয়া সুপারিবোঝাই ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। 

তবে লুট হওয়া সুপারি পাওয়া যায়নি এবং ডাকাত দলের সদস্যদেরও শনাক্ত করা যায়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিকেলে তা জানাজানি হয়। 

পুলিশ জানায়, ভোলার লালমোহন থেকে গত বুধবার ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৩০০ বস্তা সুপারি নিয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুর রওনা হয় একটি ট্রাক। মেসার্স জুলেখা ট্রান্সপোর্টের ট্রাকটি চালক বাবুল মিয়া চালাচ্ছিলেন। ট্রাকটি বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জের চরহোসেনপুর এলাকায় ডাকাত দলের কবলে পড়ে। 

একটি প্রাইভেটকারে পাঁচ সদস্যের ডাকাত দল চরহোসেনপুর এলাকায় ট্রাকটির পথ রোধ পরবর্তী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ট্রাকের চালক বাবুলকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ট্রাকটি নিয়ে তারা ভৈরবের দিকে যায়। ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজের কাছে ট্রাক চালককে রাস্তার ফেলে দিয়ে মালামালাসহ ট্রাকটি নিয়ে চলে যায় ডাকাত দল। পরে চালক বিষয়টি এজেন্সি মালিক মো. কামাল হোসেনকে জানান। 

এজেন্সি মালিক জানান, এই ব্যাপারে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ও ভৈরব থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় যেতে বলেন। গত শুক্রবার বিকেলে চালক এবং এজেন্সি মালিক কামাল হোসেন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ সেদিনই পাঁচ সদস্যের অজ্ঞাত ডাকাত দলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেয়। 

ট্রাকচালক বাবুল মিয়া বলেন, হঠাৎ পেছন থেকে প্রাইভেটকার এসে পেছনে এক্সিডেন্ট করে এসেছি বলে ট্রাক থামাতে বলে। চার ডাকাত ট্রাকে উঠে রশি দিয়ে হাত-পা ও গামছা দিয়ে আমার মুখ বেঁধে হত্যার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে ট্রাকটি লুট করে নিয়ে যায়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ট্রাকভর্তি সুপারি ডাকাতির ঘটনায় ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। সুপারি উদ্ধার ও ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।