মেহেরপুরে সড়কে গাছ ফেলে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গাংনী উপজেলার বামন্দী-দেবিপুর সড়কে শনিবার রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের অদূরে বামন্দী-দেবিপুর মাঠে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাত দলের হাত থেকে ইউপি সদস্য, সাংবাদিক, রোগী ও পথচারী কেউ রক্ষা পাইনি।

বামন্দী বাজারের সাবান আলীর ছেলে মাইক্রোবাস চালক রাজিব হোসেন বলেন, ‘সড়কের ওপর একটি গাছ ফেলে রাখে ডাকাতদল। আর একটি ট্রাক আটকিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি রাজশাহী থেকে রোগী নিয়ে করমদী গ্রামে রেখে বামন্দী আসার পথে ডাকাত দলের কবলে পড়ি।’ এ সময় তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মাইক্রোবাসের গ্লাস ভেঙে দেয় ডাকাতরা।

দেবিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি জাহিদ মাহমুদ বলেন, ‘মোটরসাইকেল যোগে বামন্দী বাজার থেকে রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়ি দেবিপুর যাওয়ার পথে ডাকাতদল পথরোধ করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে রাস্তার পাশে থাকা একটি ট্রাকের ভেতর বসিয়ে রাখে।’ তিনি জানান, ট্রাকের ভেতর আরও অন্তত ১৫ জন পথচারীকে আটকিয়ে রাখে ডাকাত দল। খবর পেয়ে রাত ২টার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

ব্রজপুর গ্রামের আব্দুস সালাম ও তার ভাইরাভাই ফিরোজ আলী বলেন, ‘আমরা বামন্দীর একটি ক্লিনিকে রোগী রেখে রাতে দেবীপুর গ্রামে আমাদের শ্বশুর আবু বক্করের বাড়ি যাচ্ছিলাম। বামন্দী-দেবীপুর সড়কের মাঝামাঝি পৌঁছালে ডাকাত দল আমাদের পথ আটকে দেয়। এ সময় আমাদের দুজনের কাছে থাকা ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।’ তারা বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া ইউপি সদস্য করমদী গ্রামের আব্দুল ওহাবও ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাত দল প্রথমেই আমাদের মোবাইল নিয়ে নেয় একারণে আমরা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।

বামন্দী ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. হিরক আলী বলেন, ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। রাতে আরও পুলিশি টহল বাড়াতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) অপু সারোয়ার বলেন, ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।