দীর্ঘ অবহেলায় ধুঁকছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের সড়ক। সংস্কারের অভাবে সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার সড়ক। রাস্তার পিচ উঠে নানা স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। পাশের ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে যানবাহন চলাচলে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। দুর্ঘটনা এড়াতে কোথাও কোথাও স্থানীয়দের উদ্যোগে ম্যানহোলের সামনে লাল কাপড় বেঁধে রাখতে দেখা গেছে।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আটিবাজার থেকে শাক্তা ইউনিয়নের হিজলাগামী সড়কটির করুণ অবস্থা দেখা গেছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। পথচারীদের হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। যানবাহন চালাতে চালকদের কসরত করতে হয়। শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাজি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ওই সড়কটি দ্রুতই সংস্কার করা হবে।

কালিন্দী ইউনিয়নের নেকরোজবাগ কবরস্থান থেকে খোলামোড়া বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা ম্যানহোলগুলোও ভেঙে গেছে। সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। জিনজিরা প্রধান সড়কে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাব হয়ে নজরগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। এখানেও বৃষ্টি হলে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ নিচু যানবাহনগুলোর ইঞ্জিনও অনেক সময় পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে পড়ে। জিনজিরায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির কার্যালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একটি ম্যানহোল ভাঙা দীর্ঘদিন ধরে। রাতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটার পর এখানে স্থানীয় লোকজন বাঁশে লাল কাপড় বেঁধে রেখেছেন। কালিন্দী ইউনিয়নের নেকরোজবাগ থেকে গদারবাগগামী সড়কটি ব্যবহারে স্থানীয়দের বেগ পেতে হয়। দীর্ঘদিন এটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

জিনজিরার প্রধান সড়ক থেকে পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ-কালিবাড়ী সড়কটিও বেহাল। সংশ্নিষ্টদের ভাষ্য, উপজেলা খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না। যেসব খাল আছে, সেগুলোর পানিও সড়ক উপচে পড়ে। যে কারণে পয়ঃনিস্কাশন নালার পানিও সরতে পারে না। সড়কগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

হিজলা এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ও মরিয়ম বিবি বলেন, তাঁরা এলাকার সড়ক উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ দেখছেন না। ঢাকা-২ (কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও সাভারের তিনটি ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম থাকেন পুরান ঢাকার লালবাগে। তিনি ওই এলাকাসংলগ্ন কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়নে যতটা মনোযোগী, কেরানীগঞ্জের বিষয়ে ততটাই উদাসীন বলে অভিযোগ তাঁদের।

জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান হাজি সাকুর হোসেন সাকু বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের সড়কটি পুরোনো হওয়ায় পানি জমে। প্রায়ই ম্যানহোলগুলো ভেঙে যায়, যা তাঁরা সংস্কার করেন। সড়কটি সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মাহমুদউল্লাহ বলেন, কেরানীগঞ্জে ১২টি রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার খালগুলো ভরাট হওয়ায় রাস্তার পানি নামতে পারে না। যে কারণে খানাখন্দ তৈরি হয়। জিনজিরার সড়কটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এটি সমাধানে সময় লাগতে পারে।