সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নাসিমা খাতুন (২৩) নামের এক পোশাককর্মীকে জোরপূর্বক কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা ওই দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে নাসিমার ভাই জেলহক হোসেন বাদী হয়ে নাসিমা স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাত জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত নাসিমা খাতুন একই উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ঝুড়ঝুড়ি গ্রামের সুমন হোসেনর স্ত্রী ও  বেত্রাশিন গ্রামের গহের আলীর মেয়ে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নাসিমা খাতুনের শ্বশুর সারোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি ফিরোজা খাতুন।

নাসিমার বাবা জানান, শুক্রবার রাতে তার মেয়ে পোশাককর্মী নাসিমা খাতুন ঢাকা থেকে স্বামী সুমনসহ বাড়িতে আসছিলেন। রাত ২টার দিকে ঝুড়ঝুড়ি গ্রামের ফসলী মাঠে আগে থেকেই অবস্থান করা নিহতের শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামীর দুই স্বজন ও স্বামী মিলে নাসিমাকে জোরপূর্বক কীটনাশক খাওয়ান। কিছুক্ষণের মধ্যে নাসিমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী সুমনসহ অন্য আসামিরা নাসিমাকে ফেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে নাসিমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ নাসিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

নাসিমার বাবা গহের আলীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে নাসিমার স্বামী সুমন তার মেয়েকে  শারীরিক-মানুষিকভাবে নির্যাতন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্যরা মিলে নাসিমাকে হত্যা করে। তিনি মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।