পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইলে ঢাকা থেকে ডেকে নিয়ে দুই বান্ধবীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর বয়স ২৩ ও ২৫ বছর। তাদের বাড়ি ঢাকার আশুলিয়া এলাকায়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ও রোববার ভোরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো ঈশ্বরদীর লক্ষীকোলা গ্রামের বাকি বিল্লাহর ছেলে আল-আমিন (২৫), একই গ্রামের নায়েব আলী সরদারের ছেলে মহিদুল সরদার (৩৫), বড়াইগ্রামের গোপালপুর এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৫) ও রাজাপুরের চাঁদ আলীর ছেলে জাবেদ আলী (৪০)।

ভুক্তভোগী দুই তরুণীর একজন জানান, মোবাইলের মাধ্যমে আল-আমিনের সাথে তার পরিচয় ও প্রেমের সর্ম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তার এক বান্ধবীকে সঙ্গে করে শনিবার সন্ধ্যায় তারা ঈশ্বরদীতে আসেন। তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য আগে থেকেই ঈশ্বরদীতে অপেক্ষা করছিল আল-আমিনসহ অভিযুক্ত চার জন।  দেখা হওয়ার পর ওই দুই তরুণীকে বাড়িতে নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ান তারা। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদেরকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু ফার্মের আখ ক্ষেতে নিয়ে যায় । সেখানে নিয়ে চার জন মিলে ওই দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে একজনের হাতে কামড় দিয়ে এক তরুণী দৌড়ে আখ ক্ষেত থেকে বের হয়ে চিৎকার দিলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মুলাডুলি বিটের পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ইক্ষু ফার্মের বিশাল আখক্ষেতে অভিযান ও তল্লাশি চালিয়ে ধর্ষণের শিকার আরেক তরুণীকে উদ্ধার করে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উদ্ধারের পর ওই দুই তরুণীর কাছ থেকে সবিস্তারে ঘটনা শুনে তাদের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী ইক্ষুফার্মের বিশাল এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করার পর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।