ময়মনসিংহ নগরীতে উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায় এক নারী ও মোটরসাইকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কা লাগায় এক যুবক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ দুই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিদের রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নগরীর আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন সাথী আক্তার (৩৮)। স্বামী পরিত্যক্তা সাথী নিজের ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশেই থাকতেন। তিনি ওই এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। গত শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে সাথীর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ পান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সাথীর বোন শিউলি শনিবার থানায় মামলা করেন। এতে এলাকার মুনসুর মিয়ার ছেলে বাবুল (৪০) ও জয়নাল মিয়ার ছেলে হৃদয়কে (২৫) আসামি করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৬ জনকে।
এজাহারে বলা হয়েছে, সাথীকে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করতো হৃদয়। এ নিয়ে গত বুধবার ঝগড়া হয় তাঁর পরিবারের সঙ্গে। বিষয়টি মীমাংসা না হলে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় অভিযোগ দেন সাথী। সেই রাতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে চুরখাই ও কেওয়াটখালী এলাকা থেকে বাবুল ও হৃদয়কে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে হৃদয়। তার তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বলাশপুর হাক্কানী মোড়ে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কয়েকজন কিশোর। অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলের একটি লাইট ভেঙে গেলে তারা চালক তাপস চন্দ্র সরকারকে মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে এক কিশোর পাশেই তাদের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে তাপসের পিঠে আঘাত করে হত্যা করে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
তাপস ধোবাউড়া উপজেলার পশ্চিম গামারীতলা কলসিন্দুর এলাকার প্রয়াত অনিমেশ চন্দ্র সরকারের ছেলে। বলাশপুরের পাঁচ কিশোর এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাপসের ছোট ভাই সুমন চন্দ্র সরকার পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে রোববার থানায় মামলাটি করেন।
ঘটনার পর ফলের দোকানের কর্মচারী মো. খোকনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে ওই দোকানে যোগ দেন মনির।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, সাথী হত্যার দুই আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাপস হত্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।