নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যার রেশ কাটতে না কাটতে এবার রিতু আক্তার ফারজানা (১৩) নামে আরেক ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোর ক্ষুর জাতীয় অস্ত্র দিয়ে তার গলায় পোঁচ দেয়। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফারজানা বিনোদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জামালপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে। সে স্থানীয় নলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আহত ছাত্রীর বরাত দিয়ে তার স্কুলের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, স্কুল ছুটির পর ফারজানা হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ২টার দিকে তার গ্রামের হাটখোলা বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছলে মুখোশ পরা এক কিশোর ক্ষুর জাতীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে ফারজানার গলায় পোঁচ দেয়। এতে তার গলার চামড়া সামান্য কেটে যায়। এ সময় সে ভয়ে চিৎকার দিলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও স্কুলশিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সুধারাম মডেল থানার ওসিকে জানানো হয়।
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ফারজানা শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে সে আতঙ্কে রয়েছে। হামলাকারী কিশোরের লম্বা চুল ও কপালে দাগ ছিল বলে সে জানিয়েছে।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বাবলু বলেন, অল্পের জন্য মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেছে। হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অপরাধীকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতার (১৪) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি তাকে বাসায় একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করে।