পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের মধ্যে ২ শিশুসহ ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দিনাজপুরের সদর, খানসামা ও বীরগঞ্জ থেকে। 

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলার পূর্ণভবা নদীর মাহুদপাড়া, বীরগঞ্জ উপজেলার ঢেপা নদীর স্লুইস গেট ও আত্রাই নদীর ঝাড়বাড়ি এবং খানসামা উপজেলার জিয়া সেতু, ফরিদাবাদ এলাকা, পশ্চিম বাসুলী কদম আলীর ঘাট ও জয়ন্তীয়া ঘাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এদের মধ্যে খানসামা উপজেলায় একজন শিশুসহ ৫ জন, বীরগঞ্জ উপজেলায় একজন শিশু ও একজন নারী এবং সদর উপজেলায় একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোমিনুল করিম। বিকেলে মরদেহগুলোর নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 উদ্ধার হওয়া ৮ মরদেহের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তারা হলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের শক্তিপদ রায়ের স্ত্রী ঝর্ণা রানী (৫২), বোদা উপজেলার কাউয়াখাল গ্রামের সহিন রায়ের স্ত্রী সুমিত্রা রানী (৪৫), একই উপজেলার বংশিধর পুজারী এলাকার বিমল রায়ের ৬ বছরের ছেলে সুর্য, মাড়েয়া গ্রামের প্রফুল্ল রায়ের আড়াই বছরের ছেলে সুব্রত রায়, কাউয়াখাল গ্রামের হেম কুমার রায়ের স্ত্রী আদুরি রায় (৪০), দেবীগঞ্জ উপজেলার হাতিডুবা গ্রামের ভুপেন রায়ের স্ত্রী রুপালী (৩৭) এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিশামতপাড়ার অনন্ত কুমারের স্ত্রী পুস্পারানী (৫২)। 

খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহ হস্তান্তরের ব্যাপারে বোদা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

 কোতয়ালী থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, তারা সকাল ৯ টার সময় দিনাজপুর সদর উপজেলার মাহুদপাড়া পূর্নভবা (কাঞ্চন নদী) নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তার আনুমানিক বয়স (২৮) বছর। তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

 বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার জানান, সকালে উপজেলার ঝাড়বাড়ী ও স্লুইস গেট এলাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 দিনাজপুরের অতিরিক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোমিনুল করিম বলেন, যেসব মরদেহ পাওয়া গেছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবার ও স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।