কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসির ছয় বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার হওয়া একজন প্রধান শিক্ষক, চার সহকারী শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

রোববার শিক্ষক কর্মচারীদের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান পলাশ।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলাশ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যবস্থাপনা কমিটির কমিটির জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ওইদিন বিকেলে শিক্ষাবোর্ডের তদন্ত কমিটি আসায় বিষয়টি রোববার জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পলাতক অফিস সহকারী আবু হানিফের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি বলেছে তিনি পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হলে বা দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কমিটি ব্যবস্থা নেবে।

যারা বরখাস্ত হয়েছেন- পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবের দায়িত্বে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক যোবায়ের হোসেন, আমিনুর রহমান, হামিদুর রহমান, সোহেল আলম মামুন এবং পিয়ন সুজন মিয়া। এ ছয়জনই গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে আছেন।

পুলিশ জানায়, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মূলে ছিলেন প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান। আর এ ঘটনায় অন্যান্য শিক্ষক ও পিয়ন সহযোগিতা করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটি ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আমরাও মাউশি বরাবর প্রতিবেদন দিয়েছি। মাউশিও হয়তো তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। 

এর আগে চলতি এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার দিন বিষয়টি জনসম্মুখে চলে আসে। গত মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওইদিন পরীক্ষা শেষে নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। একই সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার ক্লু পায় পুলিশ। পরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক যোবায়ের ও রাসেলকে আটক করে পুলিশ। প্রধান শিক্ষকের তথ্যমতে বিদ্যালয়ের আলমারি থেকে প্রশ্নভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।