সিলেটে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সেজে চলাফেরা করা তুষার আহমদ নামের এক তরুণ খুনের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

আজ সোমবার পৃথক অভিযান করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরমধ্যে ৪ জন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানিয়েছেন, তাদের মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হবে। 

তিনি জানান, তুষার হত্যার ঘটনায় তার ভাই হিমেল আহমদ রাফি বাদী হয়ে রোববার রাতেই মামলা করেন। 

রোববার সকালে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে খুন হওয়া তুষার আহমদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের আবুল হাসেমের ছেলে ও নগরীর খাসদবির এলাকার তরঙ্গ-৩৮ নম্বর বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। শনিবার রাতে তাকে বাসা থেকে কয়েকজন হিজড়া ডেকে নিয়ে আসার পরদিন সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। 

সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের মৃত মনাই মিয়ার সন্তান হৃদয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সিদ্দিক মিয়ার সন্তান তানহ, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার হোসেনপুরের এমরাজুল হকের সন্তান সুমি উজ্জ্বল, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাঁচগাঁওয়ের কনাই মিয়ার সন্তান চাঁদনী সজল। এ চারজন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর পুলিশ বিকেলে তাদের কারাগারে প্রেরণ করে। এছাড়া পাপ্পু পাপিয়া ও হৃদয় রুপা নামের দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তুষারের ভাই রাফি জানিয়েছেন, তুষার হিজড়া নয়। ছোটবেলা থেকে সে মেয়ে সেজে থাকতে ভালোবাসত। গত কয়েক বছর ধরে হিজড়া সেজে নগরীর হিজড়াদের সাথে চলাফেরা করত। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানেন না বলে দাবি করেন রাফি।