বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সাহিত্য সমালোচক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রজন্মের টিনএজ সময়টা (কৈশোর) ছিনতাই হয়ে গেছে, চুরি হয়ে গেছে স্বপ্ন। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সটা সবচেয়ে উপভোগ্য, সৃজনশীল ও গঠনমূলক। এ সময় মানুষের ভিত্তি তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের তরুণদের এই সময়টা নানাভাবে ছিনতাই হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভাষার মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কর্পোরেট জগাখিচুরি ভাষা চালুর পাঁয়তারা চলছে। এর ফলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। ভাষা দখলের মধ্যে দিয়ে যেভাবে একটি দেশ দখল করা যায় তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়।’

ফরিদপুরে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। আজ সোমবার বিকেলে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে ভাষার বৈকল্য চলছে এবং এতে জাতিগতভাবে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা ভাষার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছি। এটা রোধ করা না গেলে সামনে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে।’

তিনি বলেন, ‘গাছের শিকর যত গভীরে যায়, ঝড়ঝাপটা সেই গাছকে টলাতে পারে না। কিন্তু দিনে দিনে আমাদের শিকড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ 

‘শেক্সপিয়ারের নাটক : সাধারণ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। 

এর আগে ‘শেক্সপিয়ারের নাটক : সাধারণ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। সোমবার সকাল ১০টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে ফরিদপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম কুমার সাহা ও কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল আজম শাকিল। 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেবাশীষ দাস। উপস্থাপনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজভী জামান।

ওই সেমিনারে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন আধুনিক ও বহুমাত্রিক মননশীল মানুষ। তিনি মানুষের মধ্যে মানবিকতাবোধ সৃষ্টি করেছিলেন। সময়ের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন বলে আজও টিকে আছেন শেক্সপিয়ার।’

মৃত্যুর চারশ বছর পরও শেক্সপিয়ারের প্রাসঙ্গিকতা ও সমাজে শেক্সপিয়ার চর্চার বাস্তবতা তুলে ধরে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো পূজার মন্দির পাহারা দেওয়ার জন্য পুলিশ মোতায়েন করতে হয়, নারীদের রক্ষার জন্য তাদের ঘরে রাখতে হয়। নারীর ক্ষমতায়ন যখন সুদূর পরাহত, বুর্জুয়াদের মানসিক সংকট যখন প্রকট, সে প্রেক্ষাপটে শেক্সপিয়ার চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।’