রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের পর সংগঠনটির কমিটি স্থগিত এবং ১২ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। গত রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে ইডেনের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গণমাধ্যমের হাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ও বহিষ্কার-সংক্রান্ত দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসেছে। প্রথমে পাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী বহিষ্কৃতদের মধ্যে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি তানজিলা আক্তারের নাম থাকলেও পরে পাওয়া বিজ্ঞতিতে তাঁর নাম নেই। বিজ্ঞপ্তি দুটিই ছাত্রলীগের মিডিয়া গ্রুপ থেকে নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, টাইপের ক্ষেত্রে হয়তো ভুল ছিল। পরে আমাদের অফিশিয়াল পেজে যেটা সর্বশেষ পোস্ট করা হয়েছে, সেটি ফলো করতে পারেন।

স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছিলাম। তবে তারা তদন্ত কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানে না বলছে। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ (কেন্দ্রীয়) একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমাদের কাছে যথেষ্ট ভিডিও ফুটেজ আছে, সংগ্রহ করেছি। যথাযথ ডকুমেন্টস আমাদের হাতে আসার পর আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারাই (বহিষ্কৃতরা) বিশৃঙ্খলা করেছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইডেন কলেজ নেত্রীদের ফোন ধরেন না- বিদ্রোহীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য আরও বলেন, তারা আমাদেরকে কোনো ফোনই দেয়নি। সবকিছু নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা যে সিট-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির কথা বলছে, এটার কোনো প্রমাণ তো দিতে পারছে না তারা।

তিনি আরও বলেন, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার পর থেকেই একটি অংশ বারবার কমিটিকে বিতর্কিত করা চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

এদিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আমরণ অনশনের ডাক দেন বহিষ্কৃত ১২ নেত্রী। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন গুটিয়ে নেন তাঁরা।