রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকার মুগদার মানিকনগর এলাকার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

ওই শিক্ষার্থীর নাম ছন্দা রায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। চলতি বছরের মার্চে তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ করেছেন। এখনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। গত ৮ জুলাই ছন্দার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক উত্তম কুমারের বিয়ে হয়।

ছন্দার স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের পর থেকে ছন্দার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন উত্তম। মুঠোফোনে ছন্দাকে না পেয়ে উত্তম বাসায় এসে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। পরে তিনি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, ছন্দার লাশ ঝুলে আছে। উত্তম বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জানান, তারা ঝুলন্ত অবস্থায় ছন্দার লাশ উদ্ধার করেন। এর আগে ছন্দার স্বামী উত্তম কুমার ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী দরজা ভাঙেন। তারা একটি হাতে লেখা চিরকুট পেয়েছেন। সেখানে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী।’

ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ছন্দার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। তার বিয়ে হয়েছে দিনাজপুরে। এ ঘটনার পর ছন্দার বড় বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ছন্দার বোন বলেছেন, ছন্দা ও তার স্বামীর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না বলেই তারা জানেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এদিকে সহপাঠীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ছন্দার অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডসংলগ্ন সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।