কুমিল্লায় মোবাইল ফোনে রিচার্জের একটি দোকান রয়েছে রামকৃষ্ণ দেবনাথ ওরফে ইমনের। তবে নিজেকে তিনি পরিচয় দেন পোশাক কারখানার মালিক হিসেবে। ফেসবুকে মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জে তাঁর দুটি কারখানা রয়েছে। এভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের গোপন ছবি সংগ্রহ করেন তিনি। পরে সেই ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই থাকে তাঁর মূল লক্ষ্য। সর্বশেষ কলেজছাত্রী এক তরুণীর গোসলের ছবি তুলে অর্থ দাবির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন সমকালকে বলেন, ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ দাবির ঘটনায় মঙ্গলবার কুমিল্লার বরুড়া থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি 'মন আমার উড়ন্ত পাখি' নামে একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে রাজধানীর একটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একদিন সেই শিক্ষার্থী গোসল করার সময় তাঁর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেন ইমন এবং ভিডিও থেকে গোসলের ছবি তুলে রাখেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ছাত্রীর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে ওই ছাত্রী থানায় অভিযোগ করলে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, ইমন বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করেন। একটি আইডি দিয়ে প্রতারণার পর সেটি বন্ধ করে দেন। সর্বশেষ তাঁর পাঁচটি আইডি সচল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সর্বশেষ প্রতারণায় ব্যবহূত 'মন আমার উড়ন্ত পাখি' ছাড়াও রয়েছে মেঘলা আক্তার, ফারজানা আক্তার, ঢাকাইয়া পোলা ও হঠাৎ বৃষ্টি। এগুলোর মধ্যে মন আমার উড়ন্ত পাখি আইডি দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে এবং ফারজানা আক্তার দিয়ে ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। ছেলেরা নারী ভেবে ইমনের সঙ্গেই চ্যাট করতেন!
পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনে রিচার্জের দোকান থাকার সুবাদে ইমন সহজেই মেয়েদের ফোন নম্বর পেয়ে যান। যেসব তরুণী তাঁর দোকানে রিচার্জ করতে যান, তাঁদের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করতেন তিনি। পরে সেসব নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলেন।