উল্লাপাড়ায় কৃষক সাইদুর রহমান রঞ্জু (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। ভাড়া দেওয়া নৌকায় নাচ-গানের দলের ভাড়া নিয়ে গোলযোগের জের ধরে রঞ্জুকে খুন করে ঘাতকরা। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডলের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় রঞ্জুর ৩ হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। 

তারা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের গোলজার শাহের ছেলে আব্দুল মমিন (৩০), সাহেব আলীর ছেলে আলাউদ্দিন প্রামাণিক (১৯) ও আবুল কাসেম প্রামাণিকের ছেলে সোহেল রানা (২৬)। তাদেরকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার এলংজানি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আসামি মমিনের বাড়ি থেকে নিহত রঞ্জুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার বলতৈল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর ছেলে কৃষক রঞ্জু সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে অপহৃত হন। পরেরদিন রঞ্জুর মোবাইল ফোন থেকে অপহরণকারীরা রঞ্জুর স্ত্রী বুলবুলি খাতুনের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। পরিবারের লোকজন প্রথমে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে ওই টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করে। ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশে কুমার নদ থেকে রঞ্জুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ। 

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল আজ বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। কৃষক রঞ্জুর হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এ সময় তিনি জানান, রঞ্জু কৃষিকাজের পাশাপাশি নৌকা ভাড়া দিয়ে তাতে নাচ-গান বাজনার ব্যবস্থা করতেন। গ্রেপ্তারকৃতরা ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রঞ্জুর নৌকাটি নাচ-গানের দলসহ ভাড়া নিয়ে এলংজানি ঘাট থেকে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের এলাকায় গিয়ে আমোদপ্রমোদ করে। এ সময় রঞ্জুর সঙ্গে নৌকা ও নাচ গানের ভাড়া নিয়ে গোলযোগ বাঁধে। 

পুলিশ সুপার জানান, এক পর্যায়ে রঞ্জু লাথি মেরে আসামি আলাউদ্দিনকে নৌকা থেকে পানিতে ফেলে দেয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতকরা নৌকায় থাকা লোহার রড দিয়ে রঞ্জুর মাথায় আঘাত করে এবং গলাটিপে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহের সঙ্গে দড়ি ও পাথর বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়। রঞ্জুকে হত্যার পর আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যে হত্যাকারীরা তার স্ত্রীর কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসলে মুক্তিপণ দাবির আগেই রঞ্জুকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।