এবার রিকশাচালককে ছুরিকাহত করে আলোচনায় এসেছেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরখাস্ত হওয়া আবাসিক চিকিৎসক মুহিবুর রহমান রুবেল। রিকশার ভাড়া নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিলাল আহমদ নামের এক রিকশাচালককে ছুরিকাঘাত করে তিনি আলোচনায় আসেন। ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় বিক্ষোভ করে।

এর আগে গত বছর করোনা ভাইরাসের সনদ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগে তাকে আটক করেছিল র‌্যাব-৯। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বহিষ্কারের পরও চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন ফার্সেসি থেকে ফায়দা নিতে শুরু করেন ডা. রুবেল। বিষয়টি জানতে পেরে ওই গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে আটক করে। বরখাস্ত হলেও ডা. রুবেল গত এক বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনেই বসবাস করছেন। তিনি সিলেট নগরীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে চিকিৎসক মুহিবুর রহমান রুবেল চালক বিলালের রিকশাযোগে বাসা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বাজারে যান। তিনবার তিনি রিকশা দিয়ে বাসা ও বাজারে যাতায়াত করেন। পরে ভাড়া বাবদ চালককে বিশ টাকা দিলে তা কম হয়েছে বলে দাবি করেন চালক বিলাল। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে ডা. রুবেল বাসায় রাখা ফল কাটার ছোরা নিয়ে এসে বিলালকে ছুরিকাঘাত করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। অর্ধশতলোক জড়ো হয়ে তার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে। 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মমি দাশকে খতিয়ে দেখার জন্য বলেছেন। আহত চালকের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান ডা. মমি দাস।

থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। আহত চালক অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।