ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লাউথুতি হকনগর দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানে যান না। সেখানে কোনো শিক্ষার্থীও নেই। তবে এমপিওভুক্ত হতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হামিদুর রহমান আশ্রয় নিয়েছেন এক অভিনব প্রতারণার। টাকার বিনিময়ে বীরগঞ্জ উপজেলার নন্দাইগাঁও আলিম মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীকে এনে নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে দাখিল পরীক্ষায় বসিয়েছিলেন তিনি। সদর উপজেলার সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইসলামের ইতিহাস পরীক্ষা চলার সময় এমন ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে।

অভিযোগ, এসব শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময়ে নিজের, বাবা ও মায়ের নামসহ জন্ম তারিখের কিছুটা পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিলেন লাউথুতি হকনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হামিদুর রহমান। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর থেকে তিনি পলাতক।

ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব আবুল হাসান বলেন, এসব পরীক্ষার্থীর কথায় সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি ইউএনওকে জানান। পরে ইউএনও জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তারা ভাড়ায় পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের বহিস্কার করা হলেও, বয়স বিবেচনায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নন্দাইগাঁও আলিম মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, তাঁদের অজান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন কাজ করানোয় তাঁরা লজ্জিত।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান বলেন, ওই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।