মুক্তিপণের দাবিতে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে পাঁচ কৃষককে অপহরণ করেছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা গেছে। গুরুতর একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দু'জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গপে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ দুই কৃষকের সন্ধানে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

নিখোঁজরা হলেন- পানখালী এলাকার বাসিন্দা মৃত উলা মিয়ার ছেলে নজির আহমদ ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন। তাঁদের শস্যক্ষেত থেকে অপহরণ করে মরিচ্যাঘোনা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ এক কৃষক সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার আশিকুর রহমান।

ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, পাঁচ কৃষককে অপহরণের পর একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে যোগাযোগ করতে চাইলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর আগেও হ্নীলা ও হোয়াইক্যং পাহাড়ি এলাকা থেকে একাধিকবার কৃষকদের অপহরণ করেছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ওই পাঁচ কৃষক ক্ষেতে কাজ করছিলেন। সেখানে আকস্মিক হানা দেয় ১০-১২ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। এ সময় তারা কৃষকদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. শাহজাহান, ঠাণ্ডা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর ও আবু বক্করের শিশুপুত্র মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করা গেছে। সন্ত্রাসীরা অপহৃত দের পরিবারে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে শাহজাহানকে গুলি করে। এ ছাড়া আবু বক্কর ও মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে জখম করে।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কপবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। পরে অগ্রগতি জানানো হবে।