হিমালয় জয় করে দেশে ফেরার পর থেকেই একের পর এক বীরোচিত সংবর্ধনায় সিক্ত হচ্ছেন বাংলার নারী ফুটবলাররা। সাফজয়ী দলের কলসিন্দুরের আট ফুটবলকন্যা নিজেদের জেলা ময়মনসিংহে ফিরেও পাচ্ছেন অভ্যর্থনা ও ভালোবাসা। এবার জেলা পুলিশের বর্ণিল সংবর্ধনা পেলেন আট নারী ফুটবলার- সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্ডা, শামসুন্নাহার, শিউলি আজিম, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সাজেদা আক্তার ও মার্জিয়া আক্তার। আর খাগড়াছড়ি ফিরে সংবর্ধনা পেয়েছেন সাফজয়ী তিন কন্যা।

গতকাল শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মোড়ের পুলিশ অফিসার্স মেস থেকে ফুলের মালা পরিয়ে দুটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ লাইন্সের সংবর্ধনাস্থলে নেওয়া হয় ফুটবলার ও তাঁদের গড়ার কারিগরদের। মঞ্চে ওঠার পর দেওয়া হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। এ ছাড়া তাঁদের দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার। পুলিশের এমন আয়োজনে আপ্লুত এই মেয়েরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন নারী ফুটবলার গড়ার কারিগর কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী শীল, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন, কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিমের ম্যানেজার মালা রানী সরকার, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম দেলোয়ার হোসেন মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহম্মেদ রানা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি সাজ্জাত জাহান চৌধুরী শাহীন, সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল আলম, নারী ফুটবলার সানজিদা আক্তার ও মারিয়া মান্ডা।

রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতে আজ মেয়েরা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে হিমালয় জয় করেছে। মেয়েরা তাদের এ অর্জন ধরে রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।

পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূঞা বলেন, ফুটবলের উন্নয়নে মেয়েদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে জেলা পুলিশ। এটি শুধু ফুটবলের বিজয় নয়, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার একটি সার্থক রূপায়ণ।

পরে বিকেলে নিজ উপজেলা ধোবাউড়া গেলে ফুটবলকন্যাদের সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করা হয়।

এদিকে খাগড়াছড়ির তিন ফুটবলকন্যা আনাই মগিনী, আনুচিং মগিনী ও মনিকা চাকমাকে গতকাল লাল-সবুজের পতাকা মোড়ানো ভালোবাসায় বরণ করে নেন খাগড়াছড়িবাসী। সকালে রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি পৌঁছালে সাফজয়ীদের ঠাঁকুরছড়ায় ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নারী এমপি বাসন্তী চাকমা। বরণের পর ছাদ খোলা জিপে তিন কন্যার সঙ্গে সহকারী কোচ তৃষ্ণা চাকমাকে শহরে ঘোরানো হয়। এ সময় শত শত মানুষ হাত নেড়ে তাঁদের স্বাগত জানান। পরে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারজনকে ১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। পরে বিকেলে জেলা পুলিশও তাঁদের জমকালো সংবর্ধনা দেয়।