চট্টগ্রামে এসিড নিক্ষেপের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কামাল হোসেন ওরফে বালু কামাল ওরফে শান্তকে ২৪ বছর পর চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সে জেলার ফরিদগঞ্জ থানার কাউনিয়া এলাকার রসুল করিমের ছেলে। শনিবার চান্দগাঁও ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএ ইউসুফ।

র‌্যাব জানায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কমার্স কলেজের বিপরীত পাশে অবস্থিত দোকান দি মট্টো রেফ্রিজারেশনে ফ্রিজ মেরামতের কাজ করতেন ভিকটিম হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। আসামি কামালও একই দোকানে কাজ করতেন। দোকানটি রফিক ও তাঁর বন্ধু শাহজাহান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করতেন। এক পর্যায়ে রফিক দোকানের অংশীদারিত্ব বিক্রির কথা জানালে জাকারিয়া সেটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য কামাল জাকারিয়ার সঙ্গে প্রায়ই তর্কবিতর্ক ও ঝগড়া করত।

এর পর ১৯৯৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের দিন জাকারিয়াকে দোকানে ডেকে আনে কামাল। পরে সকাল ৯টার দিকে কামাল জাকারিয়ার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে জাকারিয়ার চোখ, মুখ, বুক, হাত ঝলসে যায়। এসিড নিক্ষেপের পর জাকারিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কামাল দেয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এসিডে জাকারিয়ার এক চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

এ ঘটনায় জাকারিয়ার বাবা মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে পরদিন ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিক কামাল হোসেন পলাতক ছিল। তার অনুপস্থিতিতে ২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত আসামি কামালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।