রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে নগরীর হড়গ্রাম টুলটুলি পাড়ায় বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিক কারখানার গেটে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তানজিমুলকে লাঞ্ছিত করে। এসময় তার প্রাইভেট কারেও তারা ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-হিমেল (২৭), তুষার (৩৪), নাসির উদ্দিন (৪৫) ও আনোয়ার হোসেন (২৮)। তারা সবাই বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিক কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক জানান, নগরীর টুলটুলি পাড়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ছোট একটি রাস্তার পাশে বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিকের কারখানা। প্রতিদিন কোম্পানির ৫ থেকে ৭টি গাড়ি রাস্তার উপরে রেখে তারা মালামাল উঠা-নামানোর কাজ করে। এতে করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়েন। রোববার বেলা ১২ টার দিকে ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে নিজের প্রাইভেট কারে যাচ্ছিলেন তানজিমুল হক। এসময় বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিকের মূল ফটকের সামনে তাদের গাড়ি থাকায় আটকে পড়েন তিনি। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তানজিমের ওপর চড়াও হন। তাকে মারধরের পাশাপাশি গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে তিনি পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, এ ঘটনায় তানজিমুল হক বাদী হয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ কারখানায় অভিযান চালিয়ে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। 

এদিকে, সাংবাদিক তানজিমের উপর হামলার প্রতিবাদে বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

খবর পেয়ে ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় তারা প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের অভিযোগে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। কারখানাটি ৬মাসের জন্য সিলগালা করে দেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলেন, এখানে চারটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদনের মেয়াদ মার্চ মাস পর্যন্ত ছিল। এরপর সেটি নবায়ন করেনি। তবে তারা আবেদন করেছেন। কিন্তু অনুমোদন না থাকলেও তারা ওষুধ উৎপাদন করে আসছেন। এছাড়াও সেখানে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন কেমিস্ট পাওয়া যায়নি। একজনকে নিয়োগ দেখানো হলেও সে ঢাকায় থাকে। কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ তৈরী করা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, কারখানার দুই লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। তারা সে অর্থ পরিশোধ করেছে। এছাড়াও অনুমোদনহীন উৎপাদিত বেশ কিছু ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।