ফরিদপুরে প্রতারকের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুই ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত এক বিজিবি সদস্য।

সোমবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওই তিন ব্যক্তি। 

অভিযুক্ত ওই প্রতারকের নাম হাবিবুর রহমান ওরফে ডা. রাকিব হাসান শুভ। তিনি প্রতারণার মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে আছেন। 

ভুক্তভোগীরা হলেন, গীতা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক প্রদীপ কুমার সাহা, ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান মামুন ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম তালুকদার জানান, ডা. রাকিব হাসান শুভ ওরফে হাবিবুর রহমান আমার বাসার পাশে ভাড়া থাকতেন। তিনি নিজেকে চিকিৎসক, বড় ঠিকাদার ও জেলখানার রেশন সাপ্লাইয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, 'আপনি তো অবসরে চলে এসেছেন, আসেন আমরা ব্যবসা করি, আমার অনেক ব্যবসা আছে।' অবসরকালীন সময়ে কি করবো ভেবে আমিও ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেই। তার সঙ্গে ডিড হয় এবং চেকের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে মোট ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পর জানতে পারি তিনি একজন প্রতারক। পরে তাঁর কাছে টাকা চাইলে ফেরত তো দেয়নি বরং রাজবাড়ী আদালতে আমাদের নামে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। 

অবসরপ্রাপ্ত ওই বিজিবি সদস্য বলেন, এই টাকাটা আমার জীবনের শেষ সম্বল ছিল। আমি এখন নিঃস্ব। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি আমি। 

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, পুলিশের রেশন ডাল সাপ্লাই দেয়ার জন্য গীতা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক প্রদীপ কুমারের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকার ডাল বাকি নিয়ে টাকা পরিশোধ করেননি ওই প্রতারক। পরবর্তীতে আরও ডাল চাইলে প্রদীপ দিতে রাজি না হলে তার বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। একই ভাবে ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান মামুনের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে  ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডা. রাকিব হাসান শুভর আসল নাম হাবিবুর রহমান। তিনি একসময় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে বাওনারা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেখানে স্কুল ফান্ডের ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করায় তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়। পরে তিনি নাম পরিবর্তন করে ডা. রাকিব হাসান শুভ নাম ধারণ করেন। তিনি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিতেন। এমনকি তিনি ফরিদপুর সদর হাসপাতালের এক সেবিকাকে বিয়ে করেছেন চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে। 

ভুক্তভোগী এই তিন জন বাদী হয়ে প্রতারক রাকিব হাসান শুভ ওরফে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক মাহাবুবুল করীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে রাকিব হাসান শুভর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত শনিবার তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি এখন জেলে রয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত প্রতারক, অনেকের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, এমনকি চিকিৎসক না হয়েও ভোটার আইডি কার্ডে নামের আগে ডা. ব্যবহার করেছেন। বিয়েও করেছেন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে।