চট্টগ্রামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সাড়ে ৪১ কোটি টাকার বিদেশি মদ আমদানির মামলায় আমদানিকারক মো. শোয়াইব আজিজকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। শোয়াইব আজিজ বনানীর এফ ব্লকের ৩৭ নম্বর হাউজের ৮৬ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ।

চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের চার রাজস্ব কর্মকর্তা বাদী হয়ে পাঁচটি মামলা করেন। মামলাগুলোতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজিজ, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীসহ প্রায় ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কাস্টমসের অ্যাসাইকোড ওয়াল্ড সিস্টেমে জালিয়াতি করে অনিয়ম করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী ইপিজেডের বিএইচকে টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসি টাইগার কোম্পানি লিমিটেড, নীলফামারী জেলার উত্তরা ইপিজেডের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড ও ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় নুর হুদা, দ্বিতীয় মামলায় মেহেদি হাসান বিন আজাদ, তৃতীয় মামলায় মো. ওয়াহেদুজ্জামান, চতুর্থ মামলায় মো. আবদুর রব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বাদীরা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

এর আগে ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আরেকটি অবৈধ মদের চালানের বিপরীতে মামলা করা হয়েছিল। বন্দরে পাঁচ কনটেইনার মদের চালান ধরা পড়ার ঘটনায় কাস্টমস আইনের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা করা হয়।

এর আগে গত ২০ জুলাই কুমিল্লা ইপিজেডের হেসি টাইগার কোম্পানি লিমিটেড ও ঈশ্বরদী ইপিজেডের বিএইচকে টেক্সটাইল লিমিটেডের নামে চীন থেকে দুই কনটেইনারে আসা ৩১ হাজার ৬২৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। দুই চালানে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর ২৪ জুলাই নীলফামারী জেলার উত্তরা ইপিজেডের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের আমদানি করা ১৫ হাজার ২০৪ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করে কাস্টমসের এআইআর শাখা। পাঁচটি জালিয়াতির ঘটনায় ৪৫ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার ৩১ হাজার ৬২৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।