১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় গণহত্যা বা জেনোসাইডের স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজন। পাশাপাশি সরকারকেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করাসহ জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন চত্বরে সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া এদিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায়ও এ দাবি জানানো হয়েছে। এসব সমাবেশে বলা হয়, গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘকে বাধ্য করতে হবে।

পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চলতি অধিবেশনের ৫১তম সভায় ৩ নম্বর কার্যসূচিতে নথিভুক্ত রয়েছে। কার্যসূচি অনুযায়ী শিগগিরই জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণে মানবাধিবার কাউন্সিলের সভায় প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। গত জুলাইয়ে সুইজারল্যান্ডে প্রবাসীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাপোর্ট গ্রুপ (বাসুগ) ও ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (ইবিএফ) এবং বাংলাদেশি সংগঠন আমরা ৭১ ও প্রজন্ম ৭১ গণহত্যার স্বীকৃতি-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জাতিসংঘে দাখিল করে। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনমত গঠনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আয়োজন করে 'আমরা ৭১'।

সমাবেশে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করতে শুরু করেছি। আমাদের জন্য জোনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। সরকার এ ব্যাপরে সচেষ্ট রয়েছে। 'আমরা ৭১'-এর প্রধান সমন্বয়কারী হিলাল ফয়েজী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের জেনোসাইডের স্বীকৃতি সহজে দেবে না। আমাদেরকেই দাবি আদায়ে উদ্যোগী হতে হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আহাকামউললা বলেন, ১৯৫২ সালের মাতৃভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি ১৯৯৮ সালে। তাই আমাদের জেনোসাইডের স্বীকৃতির দাবিও ভুলে গেলে চলবে না। আরও ৫০ বছর এই দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হলে আমরা তাই করব। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মসিউদ্দিন সাকের বলেন, ইতিহাস কখনও অন্যায়কে ভুলে যেতে দেয় না। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, জেনোসাইডের স্বীকৃতি পেলে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকবাবে ক্ষমা চাইতে হবে। দায়ীদের বিচার হবে এবং যারা জেনোসাইডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা ক্ষতিপুরণ পাবেন।

শহীদ সন্তান ও প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি আসীফ মুনীর তন্ময় বলেন, দাবী আদায়ের জন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে। সমাবেশ সঞ্চলনা করেন রবীন্দ্র গবেষক আব্দুর রশীদ ও সাংবাদিক মাহফুজা জেসমিন। সমাবেশে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং চুকনগর গণহত্যার উপর নির্মিত ভিভিও চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে কবিতা আবৃতি, দেশাত্মকবোধ গান ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে রাত ৮টায় জাতিসংঘের জেনোভাস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা সরাসরি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।

মানবাধিকার কমিশনের সভায় বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক, সুইডেনের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আসিফ সাকের, অধ্যাপক ড. তাজিন মুরশীদ, সুইস ইন্টারস্ট্রেজি গ্রুপের পরিচালক ক্রিস ব্লাকবার্ন, লেখক দানিয়েল সেইদিল, কাশ্মিরি রাজনীতিবিদ সরদার শওকত আলী কাশমিরি, বেলোচ ভয়েস এসোসিয়েশনের সভাপতি মুনীর মেঙ্গল।

বিষয় : জেনোসাইডের স্বীকৃতি নারকীয় গণহত্যা

মন্তব্য করুন