অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে কক্সবাজারের টেকনাফের বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চারজন বাংলাদেশিসহ ৩৯ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। তাদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন। ট্রলারটিতে ৮৫ জন যাত্রী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের শামলাপুর হলবনিয়া নৌঘাট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ডের টেকনাফের বাহারছড়া আউটপোস্ট স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলারে ৮৫ জন যাত্রী ছিল। ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এখনও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ জানান, ভোরে কোনো এক সময়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল। সম্ভবত অতিরিক্ত মানুষ বোঝাইয়ের কারণে সেটি সাগরে ডুবে যায়। ট্রলারে কতজন লোক ছিল এখনও জানা যায়নি। তবে ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

তিনি জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃতদের যাচাই-বাছাই চলছে। উদ্ধারকৃতদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা। জেলেরা সাগরে লাশ ভাসমান দেখছে বলে অবহিত করছে। কিন্ত আমরা এখনও কোন লাশ দেখতে পাইনি।

উদ্ধারকৃত টেকনাফ শালবনের বাসিন্দা রোকসা বেগম জানান, 'আমার স্বামী দীর্ঘ দিন মালয়েশিয়া রয়েছে। তার কাছে যাওয়ার জন্য সাগরপথ পাড়ি দিচ্ছিলাম। তার মাঝে এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও যাত্রা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। ট্রলারে আরও অনেক শিশু ও নারী ছিল। তাদের মৃতদেহ সাগরে ভাসতে দেখেছি।