এক প্রার্থীর ব্যাংকে জমা আছে ৭ হাজার টাকা, একজনের ১ লাখ, অন্যজনের ব্যাংকে কোনো টাকাই নেই। এই হলো রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা। তাঁরা যে কত গরিব, তা তাঁদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যে ফুটে উঠেছে। প্রার্থীদের মধ্যে দুজন নিকটজনদের কাছ থেকে ধার করে নির্বাচনী ব্যয় বহন করবেন। তবে নিজেদের তেমন টাকাপয়সা না থাকলেও কাকতালীয়ভাবে সবার স্ত্রীর ১০ ভরি করে স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

তিন প্রার্থীই পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিছিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দীপক কুণ্ডু। তিনি এসএসসি পাস। অপর দু'জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ এমএসএস। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমামুজ্জামান চৌধুরী রিটো আমেরিকার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে দ্য ডিগ্রি অব এসোসিয়েটস অব আর্টস বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে একজনের নামে আদালতে মামলা বিচারাধীন।

শফিকুল মোর্শেদ আরুজের নামে কোনো মামলা নেই। পেশা ও আয়ের উৎস ব্যবসা। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। স্ত্রীর আয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ নগদ ৬ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭ হাজার টাকা। পোস্টাল সেভিংস রয়েছে ৫ লাখ টাকা। রয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের একটি মোটর গাড়ি। ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর মধ্যে আছে টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান। স্ত্রীর নামে কোনো টাকা নেই। আছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি জমি চার বিঘা, অকৃষি জমি ২০ শতাংশ। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২২ শতাংশ কৃষি ও শূন্য ৩ শতাংশ অকৃষি জমি।

ন্যাশনাল ব্যাংক, পাংশা শাখায় তাঁর নামে ঋণ আছে ২০ লাখ টাকা। তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা, যা তিনি নিজস্ব তহবিল থেকেই খরচ করবেন।
দীপক কুণ্ডুর নামে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন। তাঁর আয়ের উৎস ব্যবসা। বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে নগদ ২ লাখ এবং ব্যাংকে ১ লাখ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। ইলেকট্রনিকস ও আসবাবের মধ্যে আছে ফ্রিজ, টিভি, সোফা, খাট প্রভৃতি। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৭ শতাংশ জায়গার ওপর একটি বাড়ি। স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তাঁর নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা। যার ২ লাখ টাকা তিনি নিজে বহন করবেন। বাকি ৩ লাখ টাকা মামাতো ভাই সাধন কুমার দের কাছ থেকে ধার করবেন।

ইমামুজ্জামান চৌধুরী রিটোর পেশা মৎস্য খামারের ব্যবসা। আয়ের উৎস বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে বার্ষিক ৭২ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমার পরিমাণের ঘরে 'প্রযোজ্য নহে' উল্লেখ আছে। স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। স্থাবর সম্পদ অকৃষি জমি ৯ শতাংশ এবং একতলা দালান। স্ত্রীর সম্পদ না থাকলেও ১০০ শতাংশ অকৃষি জমির মালিকানায় তাঁর ২ শতাংশ। নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবসা, দোকান ভাড়া ও কৃষি খাতে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার উল্লেখ আছে।