সাদামাটা ক্যানভাস থেকে শিল্পীর শিল্পকর্ম! সবখানে জায়গা করে নিয়েছে নারীর শরীরে পেঁচিয়ে থাকা শাড়ি। অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি শাড়িতেও যোগ হয়েছে ফিউশন। ডিজাইনারদের এক নতুন সৃজনশীলতা, যা বেশ কয়েক বছরে নজর কেড়েছে ফ্যাশন জগতে। আগে সুই-সুতা, এমব্রয়ডারি বা ব্লকের ছড়াছড়ি দেখা যেত। এখন শাড়িতে বাহারি নকশা, বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশের দৃশ্য, প্রাকৃতিক দৃশ্য, সেই সঙ্গে বিখ্যাত সব মানুষের ছবি রংতুলির ছোঁয়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন ডিজাইনাররা। কাপড়ের জমিন অলংকরণ মাধ্যমগুলোর একটি হ্যান্ড পেইন্টিং। কাপড়ের ওপর তুলির ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলা হয় নানা কিছু। এর চাহিদা ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে ওঠানামা করে। বর্তমানে অনেকেই হ্যান্ড পেইন্টেড পোশাক তৈরি করছেন। তাঁদের মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন বিকাশ আনন্দ সেতু। তিনি একজন তরুণ চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রতিষ্ঠান 'গজমতি' থেকে পেইন্টিং ছাড়াও তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ি। তিনি প্রতিনিয়তই ভিন্নধর্মী কিছু কাজ করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে শাড়িতে হ্যান্ড পেইন্টিং অন্যতম। সেতুর হ্যান্ড পেইন্টিংয়ের শাড়িগুলো সংস্কৃতিমনা নারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। তা ছাড়া নিজেদের সব সময় ভিন্ন লুকে যাঁরা উপস্থাপন করতে চান, তাঁরাও বেশ পছন্দ করছেন এবং এই শাড়ি পরিধান করছেন বিভিন্ন জায়গায়। হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ির আঁচলগুলোতে শিল্পীর কল্পনার চিত্রগুলোর ছোঁয়া বেশি দেখা যায়।

এই আঁচলকে শিল্পী তাঁর ক্যানভাসে ধরে নিয়ে তুলে ধরছেন ফুল, লতা, পাখি, নদী, পাহাড়, গ্রামীণ চিত্র এবং বিখ্যাত সব মানুষের ছবি, এমনকি প্রাচীন সভ্যতার নানা দিকও। এভাবে বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার একটা সূক্ষ্ণ চেষ্টা করছেন এবং এই যুগের তরুণীদের সঙ্গে বিখ্যাত সব চিত্রকল্প ও বাঙালি ঐতিহ্যের পরিচয় ঘটানো হচ্ছে। সম্প্রতি সেতু শরৎকে মাথায় রেখে কিছু শাড়ি করেছেন। এ শাড়িগুলোতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন দেশীয় ফুল। তাঁর হ্যান্ড পেইন্টিং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কারণ তিনি শাড়িতে একদম ক্যানভাসের মতো করে তুলি বোলান; যার ফলে শাড়িগুলোতে শিল্পের নান্দনিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায়। তিনি এবার দেশি ফুল নিয়ে কাজ করেছেন। সেসব ফুলের উল্লেখযোগ্য আমাদের কবিতায় মেলে।

শিল্পী বিকাশ আনন্দ সেতু তাঁর কাজের মাধ্যমে ফুলকে চেনাতে চান। পোশাক কেবল পরিধানের নয়, বরং সেটা শেখার মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই তাঁর এই পরিক্রমা। বাংলাদেশের রয়েছে অসংখ্য নয়নাভিরাম ফুল। সব ফুলের নামও আমরা জানি না। আমাদের নবীন প্রজন্মও জানে না। এ জন্যই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। যাঁরা পরছেন তাঁরা যেমন জানছেন, তেমনি তাঁদের পরিচিতজনকে বলতে পারছেন বলেই অভিমত শিল্পীর।