পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় হোয়াইট হাউসের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলেন বাইডেন।

অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা। সোমবার কানাডা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বিক্ষোভ নিয়ে সোমবারই প্রথম মুখ খুললেন খামেনি।

তিনি বলেন, এ 'দাঙ্গা' ইরানের চিরশত্রু এবং তাদের মিত্রদের 'রচিত'। বিক্ষোভে পবিত্র কোরআন পোড়ানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে ভবিষ্যৎ বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন। খামেনির এক দশকের শাসনামলে ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। সোমবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ক্যাডেটদের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, মাহসার মৃত্যু আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু এখানে যেটা স্বাভাবিক নয় সেটা হচ্ছে, কিছু মানুষ কোনো প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই সড়কগুলোকে বিপজ্জনক করে তুলেছে, কোরআন পুড়িয়েছে, পর্দানশিন নারীদের মাথা থেকে হিজাব খুলে নিয়েছে এবং মসজিদ ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনি নামে ২২ বছরের ওই তরুণী আটক হওয়ার পর ইরানের নৈতিক পুলিশের হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। হিজাব ঠিকমতো পরেননি অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। এর প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারীদের এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে রোববার দাবি করেছে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।