মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৪ মাস আগে করোনাকালে মারধরের শিকার হয়ে ওই ব্যবসায়ী সাড়ে ৯ মাস 'অসুস্থ থেকে মারা যান'। দীর্ঘ দিন পর গত সোমবার এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে ইউএনওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানায় তাঁর পরিবার।

অভিযোগে বলা হয়, করোনাকালে ২০২১ সালের ৬ জুলাই সন্ধ্যায় উপজেলার বাচামারা বাজারে আনসার সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও ইমরুল হাসান। এ সময় তাঁরা বিকাশ ও রেফ্রিজারেটর ব্যবসায়ী আবু জাফরের দোকান খোলা পান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ দিতে না চাইলে ইউএনও ও তার লোকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর আনসার সদস্যরা তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন ইউএনও।

আহত ব্যবসায়ী জাফরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার ৯ মাস ১৬ দিন পর তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। এত দিন কেন অভিযোগ করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরের ভাই সালাউদ্দিন ঠান্ডু বলেন, ইউএনওর ভয়ে অভিযোগ করতে পারিনি। তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র যাওয়ার খবর শুনে ভয় কেটেছে। ওই নির্যাতনে তাঁরও ঘাড়ের হাড় ভেঙে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও ইমরুল হাসান সমকালকে বলেন, বাচামারা বাজারে চালানো অভিযানে কাউকে মারধর করা হয়নি। অভিযোগটি যে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক- তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে। জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ বলেন, লিখিত অভিযোগের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।