বন্ধুদের ছুরিতে প্রাণ দিতে হবে ভাবতে পারেনি শান্ত। তাই তো বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে যায়। কিন্তু কিশোর বন্ধুদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ছুরি বসে মুক্তাগাছার স্কুলছাত্র শান্তর শরীরে। এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই কিশোর মঙ্গলবার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর মুক্তাগাছা পাইকা শিমুল নতুন বাজার গরুর হাট হাসিল ঘরের পাশে মাঠে দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় সারোয়ার রহমান শান্তকে (১৭) হত্যা করা হয়। সে নবারুণ বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজাটি পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি গত সাত অক্টোবর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে গত সোমবার তারিকুল ইসলাম লিমন ও রবিউল হাসান শুভকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। লিমন মুক্তাগাছা উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের বাবর আলীর ছেলে এবং শুভ সাইদুল ইসলাম রাজার ছেলে।

লিমন ও শুভ পুলিশকে জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে মাদক সেবন নিয়ে তাদের এক বন্ধুর সঙ্গে শান্তর বিরোধ হয়। এর জেরে লিমন, শুভ ও তাদের আরও দুই বন্ধু মিলে শান্তকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী লিমন, শুভ, পলাতক দুই কিশোর শান্তকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম সোহাগ ও ইকবাল হোসেনের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই কিশোর।

ময়মনসিংহ ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার দু'জনকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্য দুই কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।