অবৈধভাবে মা ইলিশ নিধন বন্ধের অভিযানে গিয়ে বরিশালের হিজলায় হামলার শিকার হয়েছেন হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন। 

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের খালিশপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় হামলাকারী ৯ জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯ জেলেসহ ১২ জেলের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জেলেকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন হিজলা থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদুল ইসলাম।

হামলা, গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম পারভেজ।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম পারভেজের নেতৃত্বে হিজলা থানার ১৬ পুলিশ সদস্যসহ ২০ জনের একটি অভিযানিকদল ট্রলার ও স্পিড বোট নিয়ে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় হিজলার খালিশপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযানে যায়। সেখানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২৫-৩০টি ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মা ইলিশ শিকার করছিলেন জেলেরা। অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা এসব নৌকার কাছাকাছি যাওয়া মাত্র জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযানিক দলের ওপর হামলা চালায়।

মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম পারভেজ বলেন, হঠাৎ জেলেদের নৌকা ও ট্রলার থেকে বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপ করা হয় এবং লম্বা বাঁশ দিয়ে হামলা চালানো হয়। তখন পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ দুই রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে তার আগেই হামলায় ২০ জনের অভিযান পরিচালনাকারী দলের সবাই কমবেশি আহত হন। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন হিজলা থানার কনস্টেবল মো. মাহফুজ।

তিনি বলেন, হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্পিড বোটের সহায়তায় ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের মধ্যে ৯ জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও জখমের অভিযোগে নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন, চারদিক থেকে ঘিরে অর্ধশতাধিক নৌকা ও ট্রলার নিয়ে অভিযানিক দলকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কনস্টেবল মাহফুজ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযানিক দলের সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯ জেলেসহ ১২ জেলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।