রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বাস থেকে তেল চুরি করে দোকানে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের দুই চালক ও চালকের একজন সহকারী (হেলপার)।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। সোমবার বিকেলে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরী।

জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বেরোবির পরিবহন পুলের বাসচালক আজিজুর রহমান, উবাইদুল ইসলাম এবং বাসের হেলপার মিলন কুমার দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে ২৭ লিটার তেল বের ড্রামে জমা করেন। ড্রামের ওই তেল বিক্রির জন্য রংপুরের মডার্ন মোড় সংলগ্ন একটি দোকানে নিয়ে যান। এ সময় সন্দেহ হলে টহল পুলিশ তাদের আটক করে। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের হন্তান্তর করা হয়।

দোকানের মালিক গুলজার সোমবার দুপুরে সমকালকে বলেন, গত রাতে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি তেল বিক্রির উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে আসে। কম দামে তেল বিক্রি করতে চাইলে অচেনা হওয়ায় তাদের তেল কিনতে চাইনি। পরে তারা তারা তেল রেখে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং বলে সকালে এসে টাকা নিয়ে যাবে তারা। কিন্তু তাতেও আমরা রাজি হইনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই বাসচালক বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। অফিসে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্ত হেলপার মিলন সমকালকে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

বেরোবি পরিবহন পুলের পরিচালক ড. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। এদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা উচিৎ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, অসদুপায় অবলম্বনের সময় তারা হাতেনাতে ধরা পরেছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।