গোয়ালন্দ ঘাট-খুলনা রুটে চলাচলকারী নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনে বগি সংকটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। সাতটি বগির মধ্যে ট্রেনটি চলাচল করছে চারটি বগি নিয়ে। প্রায় এক মাস ধরে এ সমস্যা বিরাজ করছে। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, কারখানা থেকে সময়মতো বগি সরবরাহ করতে না পারায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ ঘাট-খুলনা রুটে চলাচলকারী নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে কুষ্টিয়া হয়ে প্রতিদিন রাজবাড়ী এসে পৌঁছানোর সময় সকাল পৌনে ১০টায়। রাজবাড়ী থেকে গোয়ালন্দ ঘাট গিয়ে আবার রাজবাড়ী ফিরে আসে দুপুর ২টায়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ছেড়ে যায় খুলনা অভিমুখে। প্রতিটি স্টেশনেই ট্রেনটি থামে। ভাড়া অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় ট্রেনটি অনেক জনপ্রিয়। বেসরকারি কোম্পানি মেসার্স এনএল ট্রেডিংয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় ট্রেনটি। এই ট্রেনে সাতটি বগি নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও বর্তমানে চলাচল করছে চারটি বগি নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পাওয়ার কার, লাগেজ রুম এবং গার্ড রুম। প্রতিটি বগিতে সাধারণত ১০৪টি আসন থাকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মেইল ট্রেনে বগি কম থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিশুদের ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে যাত্রীরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনের সামনে বসে, ছাদে ওঠে
গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেল কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিন আগে তাঁর তিনজন নিকটাত্মীয় রাজবাড়ী স্টেশন থেকে মেইল ট্রেনে গন্তব্যে যাবার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। ট্রেন আসার পর এত ভিড় ছিল যে দরজা দিয়ে উঠতে পারেননি। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে যাওয়ায় তাঁদের একজনকে জানালা দিয়ে ঠেলে ওঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রেনটি রাজবাড়ী স্টেশনে এলে কথা হয় নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনের দায়িত্বরত ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, বগি কম থাকায় তাঁদের নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ট্রেনে অসম্ভব রকম ভিড় হয়। টিকিট কালেক্টরদের বগির ভেতরে ভিড় ঠেলে সব যাত্রীর কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বগি বাড়ানোর জন্য তাঁদের কোম্পানি রেলওয়েকে কয়েকবার বলেছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (টিএক্সআর) হুমায়ুন কবীর জানান, ট্রেনটির বেইজ খুলনায়। তিনি খুলনার সংশ্নিষ্ট রেল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে; বগির সংকট রয়েছে। অনেক বগি কারখানায় মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু তারা সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছে না। এ কারণে কবে সমাধান হবে তা বলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী অঞ্চলের ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মমতাজুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে একটিও বগি অবশিষ্ট নেই। তাঁরা চেষ্টা করছেন। কারখানা থেকে বগি পাওয়া মাত্রই তাঁরা পূরণ করে দেবেন। এখানে তাঁদের গাফিলতি নেই। কারখানায় লোক ও মালামালের সংকট রয়েছে।