দুইজন শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে বাধা ও মারধর করায় বরিশাল নগরীতে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। ফলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

পরে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ মিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকা দুই শ্রমিক বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে এসেছিল। মালিকপক্ষের একদল শ্রমিক তাদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেয়। এ সময় অন্যান্য শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা করে মালিক পক্ষের লোকজন। এতে ১০ জন নারী শ্রমিকসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী। 

তিনি সমকালকে বলেন, হামলায় মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ৩ নারীসহ মোট ৮ শ্রমিককে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বাসদের এই নেতা বলেন, মিলের শ্রমিক নামধারী মালিক পক্ষের শাহিন শেখ ও মনির মোল্লার নেতৃত্বে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা হয়েছে। বিক্ষোভের পর পুলিশের মধ্যস্থাতায় মালিকপক্ষ হামলাকারীদের মিল থেকে বের করে দিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। এরপরে শ্রমিকরা বেলা ২টার শিফট থেকে কাজে যোগদেন। 

ডা. মনীষা জানান, শনিবারের মধ্যে হামলাকারী শ্রমিকদের মিল থেকে বরখাস্ত করা না হলে শ্রমিকরা আবারও আন্দোলনে যাবেন।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে শ্রমিক হাসান ও মুরাদ কয়েকদিন কর্মস্থলে আসেননি। বৃহস্পতিবার সকালে তারা আসার পর মিলের প্রধান ফটকে তাদের আটকে দেওয়া হয়। তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ নিয়ে মিল গেটে গোলমাল শুরু হয়। খবর পেয়ে মিলের অন্যান্য শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে গেটে চলে আসেন। তারা হাসান ও মুরাদকে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে দাবি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে শাহিন শেখ ও মনির মোল্লার নেতৃত্বে শ্রমিক নামধারী মালিকপক্ষের দালালরা সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। কয়েকজন নারী শ্রমিককে বেধরক পেটানো হয়েছে। এসময় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাইরে এসে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

নুরুল হক জানান, মালিকপক্ষ সাধারণ শ্রমিকদের শায়েস্তা করতে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীকে মিলে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা দেওয়া সহ নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানর পরিদর্শক (অপারেশন) বিপ্লব কুমার মিস্ত্রী জানান, তারা মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে মিল কর্তৃপক্ষ হামলাকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরে শ্রমিকরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাজে যোগ দেন।

মিলের উপ মহাব্যববস্থাপক মো. খায়রুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিক সকলকে প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। কিছু শ্রমিক অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারা শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।