কুষ্টিয়া সুগার মিল বন্ধ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কৃষিজমি আবাদের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। এবার জমির পাশাপাশি খেলার মাঠটিও ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

জানা গেছে, মাঠটির আয়তন প্রায় ১ দশমিক ৩৬ একর। এটি ইজারা দেওয়ার জন্য গত ১৩ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করে নোটিশ দেয় মিল কর্তৃপক্ষ। মিলের কয়েকশ একর জমির পাশাপাশি মাঠটিও এবার ইজারার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যে নোটিশ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারি করেছেন, তাতে কৌশলে মাঠ না দেখিয়ে সাধারণ ক্লাবের পূর্ব পাশের জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সরেজিমন দেখা গেছে, সুগার মিলের কর্মচারী ক্লাবের পাশেই কুষ্টিয়া সুগার মিলের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটির অবস্থান। মূল সড়কের পাশে এ মাঠে ছেলেরা ক্রিকেট খেলছে। এলাকায় তেমন কোনো মাঠ না থাকায় এই বড় মাঠে বিভিন্ন এলাকার ছেলেমেয়েরা খেলতে আসে। শহর থেকেও ছেলেরা এ মাঠে খেলতে আসে।
খেলতে আসা আদনান আহমেদ দাবি করেন, তাঁদের খেলার জায়গা নেই। তাই সুগার মিলের এ মাঠে খেলাধুলা করে আসছেন তাঁরা। এখন আখ চাষের জন্য ইজারা দেওয়া হবে শুনেছেন। সুগার মিলের অনেক জমি। মাঠ বাদে অন্য জমি ইজারা দেওয়ার দাবি তাঁদের।
নাহিদ হোসেনের প্রশ্ন, খেলার মাঠ ইজারা দিলে ছেলেমেয়েরা কোথায় খেলবে?

জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, '৭০-এর দশক থেকে সুগার মিলের ফুটবল দল ছিল। এ দলের সদস্যরা দেশের সব টুর্নামেন্টে অংশ নিতেন। সুগার মিলের এ মাঠে এক সময় অনেক বড় টুর্নামেন্ট হতো। স্মৃতিবিজড়িত মাঠটিতে এখন বড় অয়োজন না হলেও এলাকার শিশু-কিশোররা মাঠে খেলাধুলা করছে।
এলাকাবাসী জানায়, এমনিতেই মাদক যুবসমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। এখন খেলার মাঠ না থাকলে এখানেও মাদকের আগ্রাসন বাড়তে পারে।

জেলার কৃতী ফুটবলার সাব্বির মোহাম্মদ কাদেরি সবু বলেন, শহর এলাকায় খেলার মাঠ আছে হাতেগোনা কয়েকটি। এর মধ্যে অন্যতম সুগার মিল মাঠ। এখানে শহর ও আশপাশের ছেলেরা খেলাধুলা করে। তাই খেলার মাঠটি ইজারা দেওয়া ঠিক হবে না।

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, 'খেলার মাঠ সংরক্ষণ করতে হবে'- এটা সরকারের নির্দেশ। তাই মাঠটি ইজারা দিতে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।

সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হকের সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।