ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রবাসী হত্যায় পঙ্গু পুরো পরিবার

প্রবাসী হত্যায় পঙ্গু পুরো পরিবার

সৌদিপ্রবাসী আল আমিন হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকাবাসী ও স্বজন। শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁয়ের ভিটিকান্দি এলাকায় সমকাল

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:১৫

সৌদি আরবে রি-কন্ডিশন গাড়ির ব্যবসা ছিল আল আমিনের। সেখানে তাঁর মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ ছিল। কিন্তু হত্যার পর টাকা-পয়সার হিসাব পাচ্ছে না পরিবার। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাচাতো ভাইয়ের হাতে নিহত আল আমিনের বাবা মো. ইসমাইল মিয়া এমন অভিযোগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভিটিকান্দি এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এমন মন্তব্য করেন ইসমাইল।
সৌদি আরবপ্রবাসী আল আমিনকে (৪২) হাতুড়ি দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছিল পরিবার ও এলাকাবাসী। সেখানে ইসমাইল মিয়া ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবার পঙ্গু হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন। এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ইসমাইল।
আল আমিনের দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী যুথি আক্তার মানববন্ধনে বলেন, তাঁর এক সন্তানের ৫ বছর বয়স। আরেকজন অনাগত। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সন্তানদের যারা এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। 
কর্মসূচিতে আল আমিনের মা খায়রুন্নেসা, বোন হালিমা বেগম, এলাকার বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বুলবুল, মো. ইব্রাহিম, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
পরে ভিটিকান্দি থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা হোসেনপুর বাজারে গিয়ে শেষ করেন। এতে নিহত ব্যক্তির স্বজনসহ এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। 
স্বজনদের ভাষ্য, আপন চাচাতো ভাই সুজন মিয়ার সঙ্গে আল আমিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন আল আমিন। ২৬ জানুয়ারি বেলা ৩টার দিকে বেড়ানোর নাম করে আল আমিনকে ডেকে নিয়ে যায় সুজন। মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন চরে বেড়ানো শেষে সন্ধ্যার পর হাতুড়ি দিয়ে আল আমিনের মাথা থেঁতলে হত্যা করে বাড়ি ফেরে সুজন। 
স্বজনরা তার কাছে আল আমিনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, এক মেয়ের সঙ্গে আল আমিনের সম্পর্ক আছে। তারা পালিয়ে গেছে। তবে কথাবার্তায় গরমিল দেখে সন্দেহ হয় বাড়ির লোকজনের। তাকে চাপ দিলে এক পর্যায়ে হত্যার কথা স্বীকার করে সুজন। 
সোনারগাঁ থানায় বিষয়টি জানানোর পর পুলিশে সোপর্দ করা হয় সুজনকে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেঘনার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের বালুরচরে আল আমিনের মরদেহ খুঁজে পায় পরিবার। সংবাদ পেয়ে মেঘনা থানা পুলিশ ২৭ জানুয়ারি বিকেলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২৮ জানুয়ারি রাতে নিহত আল আমিনের বাবা মো. ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মেঘনা থানায় মামলা করেন। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন গতকাল বলেন, সুজনকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আদালতে আবারও রিমান্ড চাইবে পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর হলে আরেক দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

আরও পড়ুন

×