দিঘলিয়া থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ সোহেল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি। এ মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আরও মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মহানগর যুবদলের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে তাঁকে সভাপতি করা হয়েছে।
খালিশপুর এলাকা থেকে গত আগস্টে তিন বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছিল হাসান আল মামুনকে। সম্প্রতি তিনি জামিন পান। কারামুক্ত হয়েই ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি।

শুধু সোহেল বা মামুনই নন, সম্প্রতি গঠন করা খুলনা মহানগর যুবদলের ওয়ার্ড কমিটিতে বড় পদ পেয়েছেন মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা। বিতর্কিতদের দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
গত ২৮ অক্টোবর খুলনা মহানগরীর ২৮টি ওয়ার্ড এবং একটি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১৯ বছর পর কমিটি হওয়ায় বেশিরভাগ ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা বড় পদ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে।

১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব করা হয়েছে রুবেল হোসেনকে। খালিশপুরে মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তিনি। মামলায় জামিন পেয়ে এখন তিনি পলাতক।

তাঁর খোঁজ জানতে চাইলে ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করি, কিন্তু রুবেল হোসেন নামে কাউকে চিনি না। একই এলাকার সুমন হাওলাদারকে ১৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে করা হয়েছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি উজ্জ্বল দাসের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ অনেক পুরোনো। সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রিন্স সম্প্রতি চেক জালিয়াতি মামলায় কারাভোগ করেছেন। একসময় তাঁর বিরুদ্ধেও মাদক-সংশ্নিষ্টতার অভিযোগ ছিল। আরও কিছু ওয়ার্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নগরীর ২৮টি ওয়ার্ড কমিটি হলেও খালিশপুর থানা এলাকাতেই মাদক-সংশ্নিষ্টতা বেশি। এ নিয়ে বিব্রত ও হতাশ বিএনপি নেতারা। কিন্তু খুলনা মহানগর বিএনপি, যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা সবাই বিএনপি নেতা রকিবুল ইসলাম বকুলের অনুসারী। তাঁর 'অসন্তুষ্টি'র ভয়ে কেউ গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মাদক বিক্রেতাদের কমিটিতে রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন জাহিদুল ইসলাম মল্লিক। নিজের ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'ইন্নালিল্লাহ ১৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের কোনো পদ আমি চাইনি। তারপরেও আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি এখান থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।' তবে গতকাল তাঁর ফেসবুকে পোস্টটি পাওয়া যায়নি। সমকালকে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না।

সোহেল, মামুন, উজ্জ্বল, প্রিন্সসহ প্রত্যেকেই মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরের। সমকালকে তিনি বলেন, পুলিশ রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে যুবদল কর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়েছে। আগে কাউকে আটক করলে পুরোনো মামলায় আসামি করা হতো। কিন্তু পুরোনো সব মামলার চার্জশিট হয়ে গেছে। এজন্য কাউকে আটক করলে মাদক উদ্ধার দেখিয়ে চালান দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কমিটি ঘোষণার পর থেকে কেউ তাঁদের কাছে পদত্যাগপত্র দেননি। ফেসবুকের লেখা বিবেচনার বিষয় নয়।

খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল সমকালকে বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।


বিষয় : মাদক বিক্রেতারা এখন যুবদল নেতা

মন্তব্য করুন