রাঙামাটির রাজবন বিহারে ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। চরকায় তুলা থেকে সুতা কাটা উদ্বোধন করেন চাকমা রানী ইয়েন ইয়েন।

এর আগে বেইন ঘরে আসা পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন বিহারের ভিক্ষু-সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিরূপা দেওয়ান, অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিয় খীসা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান প্রমুখ।

চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, বাংলাদেশ তথা সারাবিশ্ব করোনা মহামারি পরিপূর্ণভাবে কাটিয়ে উঠতে না পারলেও এর প্রভাব রয়েছে। করোনা, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া দূর হোক প্রার্থনা করছি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রার্থনা করেন।

বেইনের (কোমর তাঁত) মাধ্যমে সুতা, কাপড় বুনন, রং ও সেলাই করে চীবর (রং বস্ত্র) তৈরি করবে। দুই শতাধিক বেইনে প্রায় কয়েক হাজার পুণ্যার্থী সারারাত চীবর প্রস্তুত করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি চীবর আজ শুক্রবার বিকেলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশে দান করা হবে।

এ বছর বিপুল বৌদ্ধ পুণ্যার্থী এসেছেন। এ অনুষ্ঠান ঘিরে পাহাড়িদের তৈরি হস্তশিল্প, বস্ত্র, ধর্মীয় গানের সিডি, বই, নানান স্বাদের খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার ঘটেছে এতে।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাপূর্ণবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুতা কাটা শুরু করে কাপড় বুনন, সেলাই, রং করাসহ যাবতীয় কাজ করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয়।