'হাটগ্রামের নৌকা ঢাকার বুড়িগঙ্গায় বাইচ করে বহুবার প্রথম হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের রক্তে মিশে আছে বাইচ। কিন্তু এখন কারও মধ্যে বাইচের আগ্রহ নেই। কারণ একটি নৌকা তৈরি ও যত্ন-আত্তিতে অনেক টাকা লাগে। অর্থাভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে নৌকাবাইচ।'- কথাগুলো যখন আজহার প্রামাণিক বলছিলেন, তাঁর চোখেমুখে একরাশ হতাশা; ঐতিহ্য হারানোর হাহাকার। অথচ একটু আগেই পাবনার ঐতিহ্যবাহী হাটগ্রাম সোনালি সৈকতের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শেষ হলো।

বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মানুষ মাসব্যাপী এই বাইচ দেখে তাঁদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। আজহারের মতো আক্ষেপ পাবনার ঐতিহ্যবাহী বাইচ নৌকার মালিক ও মাঝিমাল্লাদের। হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচ ফেরাতে তাঁরা চান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

ঐতিহ্যবাহী হাটগ্রাম সোনালি সৈকতের অষ্টম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় এবার পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার ২০টি নৌকা অংশ নেয়। ১৪ অক্টোবর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সমাপনী দিনে বুধবার চারটি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে দুরন্ত প্রথম ও চানদাই এক্সপ্রেস দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজক পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক বলেন, 'স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। এর সঙ্গে সব বাঙালির আবেগ-অনুভূতি জড়িত। প্রতিবছর মানুষ সোনালি সৈকতে নৌকাবাইচ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। মাসব্যাপী আয়োজনে এবারও লক্ষাধিক দর্শকের সমাগম ঘটে। সরকারের কাছে এখানে জাতীয়ভাবে নৌকাবাইচ আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি।'

সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণীতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন, উপজেলা চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ, ইউপি চেয়ারম্যান মো. সরোয়ার প্রমুখ।